সরকারের এই আদেশ মানি না: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

নিজের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন আমি হেলমেট পরবো? সরকারের অবৈধ আদেশ মানি না।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের প্রিজনভ্যানে করে তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ তাকে হ্যান্ডকাফ পরাতে গেলে আখতারুজ্জামান কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, ডোন্ট টাচ মি।’ পরে তাকে হেলমেট, হ্যান্ডকাফ ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো হয়। এ সময় মাথায় থাকা হেলমেটটি ছুড়ে ফেলে দেন তিনি।

সাংবাদিকরা তাকে হেলমেট পরানো হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘কেন আমি হেলমেট পরবো? ছুড়ে ফেলে দিয়েছি। আমি সরকারের এই আদেশ মানি না।’ পরে তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

আদালতে নেওয়ার সময় আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি।’ এ সময় প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে আঙুল তুলে পুলিশকে শাসাতেও তাকে দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে। জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের জন্য লড়ব, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় তিনি দুই হাত উঁচিয়ে বিজয়ের চিহ্ন দেখান। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাত সোয়া ৭টার দিকে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।