যৌতুকের জন্য চিকিৎসক স্ত্রীকে গুরুতর আঘাতের মামলায় পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসক রাসেল মোরশেদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সিদ্দিকুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। ডা. ফারহা করিম ও রাসেল মোরশেদ আদালতে হাজির হন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদা বেগম আসামির জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি আপসের শর্তে জামিন নেন। তবে আপস করেননি। বরং জামিনের পর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আসামি বাইরে থাকলে বাদী ও তার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
শুনানির পর আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এদিকে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য আগামী ২৭ অক্টোবর প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই সিদ্দিকুর রহমান।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহা করিম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রায় ১৪ বছর আগে ফারহা করিম ও রাসেল মোরশেদ পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে রাসেল মোরশেদ যৌতুক দাবি করে ফারহা করিমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তাদের দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাসেল মোরশেদের অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে তার সাথে ঘর সংসার করছিলেন ফারহা করিম।
বিষয়টি একাধিকবার রাসেল মোরশেদের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের জানান ফারহা। তাকে শাসন করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু রাসেলের বাবা-মা ও স্বজনরা তাকে কোনও প্রকার শাসন করেনি।
রাসেল পরকীয়ায় এতটাই আসক্ত উল্লেখ করে মামলায় ফারহা বলেন, সে তার ও তাদের মেয়েদের কোনও খোঁজ খবর রাখে না।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নং সেক্টরস্থ সোনারগাঁও জনপথ রোডের ১৮ নং বাসায় অবস্থানকালে রাসেল ফারহার কাছে ৫০ লাখ টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে ফারহাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে সে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তখন ফারহা বাম হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করলে কাঠের বাটামের বারি তার বাম হাতে লেগে হাড় ভেঙ্গে যায়। এছাড়া রাসেল তাকে প্রাণে মেরে ফেলে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দেয়।