সেনা কমান্ডারের চেয়েও ইনুর নির্দেশ ছিল শক্তিশালী: প্রসিকিউটর তামিম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নির্দেশনা একজন সেনা কমান্ডারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে কোনও আপিল করতে গেলে তা রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা আপিলটি করেছি। জাসদ সভাপতি ইনুকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের সাজা আমরা অপর্যাপ্ত মনে করেছি। এ কারণে আমরা ১১টি গ্রাউন্ডের ভিত্তিতে ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তির প্রার্থনা করেছি। এছাড়া যেসব অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন, সেগুলোতেও যেন একই সাজা দেওয়া হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাউন্ডগুলোতে আমরা বলেছি যে, একটি আদালতের কোনও মামলায় শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের ভয়াবহতা বা গভীরতা দেখতে হয়। অর্থাৎ অপরাধী কী পরিমাণ মানুষের ওপর এই গণহত্যা চালিয়েছে? কী পরিমাণ মানুষ নিহত-আহত হয়েছেন? ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সেসবও আমরা দেখিয়েছি। কিন্তু সাজার ক্ষেত্রে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ থেকে কন্ট্রাডিক্টরি বা সামঞ্জস্যহীন হয়েছে। এ কারণে আমরা আপিল করেছি।’ 

তামিম বলেন, ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডার তথা ইনুর অর্ডার একজন আর্মি কমান্ডারের অর্ডারের চেয়েও বেশি। ইন্টারন্যাশনাল জুরিসপ্রুডেন্সের এ আইন আমরা দেখিয়েছি। অর্থাৎ একজন আর্মি কমান্ডার যখন অধীনদের অর্ডার করেন, তখন অধীনরা তা মানেন বা না-ও মানতে পারেন। কিন্তু একজন সিভিলিয়ান সুপিরিয়র লিডার যখন অধীনদের অর্ডার করেন, তখন শুধু এটি অর্ডার থাকে না। সেখানে অপরাধ সংগঠনের পরিবেশ তৈরি করা হয়। কারণ আর্মি কমান্ডার শুধু অর্ডারটাই দেন। আর একজন সিভিলিয়ান লিডার অর্ডারের সঙ্গে বক্তৃতা দেন, যা অনুসরণ করেন অধীনরা। এসবের ব্যাখ্যা দিয়ে আপিলটি যেন গ্রহণ করা হয়, সেজন্য আমরা প্রার্থনা করেছি।’ 

এর আগে গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের সাজার রায় দেওয়া হয়। সে সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন।