বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি: গ্রেফতার বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমন কারাগারে

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ রেজা এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ মামলায় তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর আসামি সাইমনের চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়।

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, চারদিনের রিমান্ডে আসামি এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই হচ্ছে। আসামি জামিন পেলে পলাতক হতে পারেন। এমতাবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

গত ২ অক্টোবর সাইমনসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। অপর আসামিরা হলেন, ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)। 
 
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এসময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

একপর্যায়ে সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহত বাদী স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে বাদীর ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার কাছে আসেন।

এসময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে আবারও বাদীকে মারধরের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামি সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। সাইমনও পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ও বাদী মো. সোহান মামলাটি দায়ের করেন।