কামাল আহমেদ মজুমদারকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আইনজীবীর আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, পড়ে গিয়ে কামাল আহমেদ মজুমদারের কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। তার বয়সও বেশি এবং তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তাকে বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে চিকিৎসা করানোর অনুমতি চাওয়া হয়।

তবে প্রসিকিউশন জানায়, কোনও আসামির চিকিৎসার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এভারকেয়ার হাসপাতালে আসামিকে রাখার ব্যবস্থা নেই। তাই বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েই তার চিকিৎসার পক্ষে মত দেয় প্রসিকিউশন।

শুনানি শেষে কামাল আহমেদ মজুমদারকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার বিচার চলছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই এবং ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ জনের বেশি নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা জড়িত ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের অক্টোবরে রাজধানীর গুলশান থেকে কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।