গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সাবেক সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার (টিম লিডার, সোয়াট) এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।
মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া।
প্রসিকিউশন জানায়, গত ২ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করা হয়। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির কথা ছিল। তবে এর মধ্যে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু চিফ প্রসিকিউটর ছুটিতে থাকায় প্রসিকিউশন নতুন করে সময়ের আবেদন করে। পরে ২৮ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
পাতারটেকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর তাদের গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে নেওয়া হয়। এরপর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) নেতৃত্বে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সোয়াট সদস্যরা সাতজনকেই গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন শরতের তুফান’।
গাজী এমএইচ তামিম আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সাতজনের মরদেহ নিতে আসা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বাকি তিনজন হলেন মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন ইবরাহীমের বাবা।
প্রসিকিউটর তামিমের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলপূর্বক গুম করে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১।
নাসিমকে গুলির পর একজনকে জাপটে ধরি, অপরজন আমার মাথায় অস্ত্র ধরেছিল