গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নাশকতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে পারে—এমন সন্দেহে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তরা থেকে রবিউলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরের দিন ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
সে দিন আদালত চার দিনের রিমান্ড দেন। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ১ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন। ওই দিনই তার ৭ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ধানমন্ডি জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. নূর আলম।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামির দেওয়া তথ্য অস্পষ্ট এবং ভাঙা ভাঙা, কোনও তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অফিসিয়াল ডকুমেন্টস, যা পাচার নিষিদ্ধ, সে সব তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করেন। তিনি কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করেন, তাদের পৃষ্টপোষক কারা, অর্থ দাতা কারা এবং বাংলাদেশে তার সার্বিক সহযোগী কারা—এগুলো এখনও আসামি প্রকাশ করেননি তিনি। রবিউল ইসলাম যাদের হয়ে কাজ করেন, তাদের পৃষ্টপোষক, অর্থদাতা কারা এবং বাংলাদেশে তার সার্বিক হযোগিতা কারা করে, সেই সহযোগীদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামিকে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অ্যাডভোকেট সুমন বলেন, এ আসামি বাংলাদেশে এসে তথ্য নিয়ে বাইরের গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য পাচার করে। আসামি ভারতীয় ‘র’ এর এজেন্ট। এদের নার্ভ অনেক শক্ত। অন্যদের কাছ থেকে একদিনে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেই তথ্য এদের কাছে পেতে ২১ দিন লাগে। ভাসা ভাসা তথ্য দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার জন্য ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট হারুন বলেন, তাকে প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ধারায় কিন্তু মামলা খুব কম হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মোবাইল ফরেনসিক করা হয়। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও রিমান্ড প্রয়োজন।
আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। নতুন করে তথ্য পাওয়ার কিছু নেই। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।
পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলায় বলা হয়েছে, রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখে গরমিল আছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন, প্রায় ১০-১২ বছরে তিনি বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন। কখনও পর্যটন ভিসা, কখনও ব্যবসায়িক ভিস নিয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন।
মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন।
রবিউল ইসলাম সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দাবি করে এজাহারে বলা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং বিধিনিষেধ থাকা এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।