চোরাচালানের নতুন কৌশল ও রুট উন্মোচন: ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে একের পর এক অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালানের নতুন রুট ও কৌশলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পরিচালিত ধারাবাহিক পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মদ জাতীয় পানীয় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

​অভিযানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভায়াগ্রাসহ সংবেদনশীল ওষুধ আনা এবং বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র হয়ে রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম জিপিওতে পণ্য পাঠানোর নতুন একটি চোরাচালান কৌশল উদঘাটন হয়েছে। 

বিমানবন্দরে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিন উদ্ধার (জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ)

১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের (ইটি৬৮০) যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ আটক করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের কোল্ড চেইন না মেনে পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে।

কমলাপুরে ডাক ও রেলপথের নতুন রুট শনাক্ত

১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আকাশপথে দেশে আসার পর পণ্যগুলো বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনায় বিমান, ডাক ও রেল পরিবহন শৃঙ্খলে সমন্বিত কাস্টমস নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

অন্যান্য উদ্ধার ও ব্যাগেজ তল্লাশি

​১৩ অক্টোবর: বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ আটক করা হয়। 

​১৪ অক্টোবর: থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার ও অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকে উদ্ধার করা হয় যৌথভাবে মোট ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস ও ১৮ দশমিক ১৮ কেজি গৌরি ক্রিম।

​দুই দিনের অভিযানের মোট হিসাব: বিদেশি সিগারেট ৫৩১ কার্টন, আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম (কমলাপুর) ৭,৭৮৭ পিস, নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম (বিমানবন্দর) ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি, অন্যান্য কসমেটিকস ৬৮ কেজি, ওষুধ (ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ) ৫৫ দশমিক ৮ কেজি, স্বর্ণালঙ্কার ১০০ গ্রাম, ৩২টি ল্যাপটপ এবং ৩টি মোবাইল, মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় ১৭ লিটার।

মোট জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।

এনবিআর জানায়, ​এই ধারাবাহিক  অভিযান কেবল শুল্ক ও রাজস্ব সুরক্ষাই করেনি, বরং ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলে এই সমন্বিত নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।