২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডায় রিকশাচালক হাফিজুল শিকদার হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ডা. দীপুমনিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক রিদুয়ানুল। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত দীপু মনিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক দীপু মনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তার জামিন চেয়েছিলেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা কারাগারে পাঠানোর আবেদনে উল্লেখ করেন, দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপু মনি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণি এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার (২৮)। এ সময় আন্দোলন দমনে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর বাম পাঁজরে লেগে ডান বগল দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২১ আগস্ট হাফিজুলের বাবা মো. আবুবকর শিকদার বাদী হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।