নদীতে মরদেহের মিছিলে এবার যোগ হলেন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা 

হাতে ঘড়ি, পকেটে আইফোন। পরিচয় শনাক্ত করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি পুলিশকে। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হলো, সেই প্রশ্নের জবাব এখনও জানা যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদের পানিতে ভেসে ওঠে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ। পরিবারের সন্দেহ, তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে বলছে, ‘শরীরে দৃশ্যমান কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য।’ একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার এমন মৃত্যু নতুন করে সামনে এনেছে পুরোনো এক উদ্বেগ। দেশের নদ-নদীতে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের নেপথ্যে আসলে কী ঘটছে? দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর আলামত গোপনের কোনও সংঘবদ্ধ কৌশল?

তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, মেঘনা, কর্ণফুলী কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খাল—কোথাও নিখোঁজের কয়েক দিন পর মিলছে অর্ধগলিত মরদেহ, কোথাও হাত-পা বাঁধা, আবার কোথাও বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে মানুষের মরদেহ। অনেকের পরিচয় মিলছে না, কারও মৃত্যুর কারণ থেকে যাচ্ছে অজানা। এই ঘটনাগুলোর সবই হত্যাকাণ্ড নয়। তবে উদ্ধার হওয়া কিছু মরদেহের সঙ্গে হত্যার যোগসূত্র পাওয়ায়, অপরাধের আলামত নিশ্চিহ্ন করতে নদী ব্যবহারের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও আলোচনায় আসছে।

নৌপুলিশ সদর দফতরের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই ৪৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। এর মধ্যে ১১৬টির পরিচয় পাওয়া যায়নি। আরও ১০৪ জনের মৃত্যুর কারণ বের করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৭৮টি, বরিশালে ৬৩টি এবং নারায়ণগঞ্জে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো অন্যান্য এলাকার।

নদীতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে হত্যা মামলা হয়েছে ৩৯২টি। এর মধ্যে চলতি বছর ৫৭টি হত্যা মামলা হয়েছে।

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌপুলিশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপ নামের এক বন্ধু বাসায় এসে তাহসিফকে ডাকেন। মাকে নিচে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর ফিরে আসেননি। ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে পারছেন না বাবা। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে কারা কিংবা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। পুলিশের সূত্র জানায়, তাহসিফ মাঝে-মধ্যে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যেতেন। 

ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তাহসিফের শরীরে দৃশ্যমান কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) তথ্য সংগ্রহে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একের পর এক মরদেহ, কোথাও রহস্য, কোথাও হত্যার প্রমাণ

তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের আগের কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন নদী থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে হাবিবুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর দুই দিন পর ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার হয় জিতু চৌধুরী (৩০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ। ২২ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২৮ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা নদী থেকে রাসেল নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিলেন। গাইবান্ধার ঘাঘট নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ প্রকৌশলী নিয়নের মরদেহও ২৪ অক্টোবর উদ্ধার করা হয়। ফলে নদীতে পাওয়া সব মরদেহকে হত্যার সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলে মনে করে পুলিশ।

গত ২৯ মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গত ২৩ আগস্ট ঢাকার বুড়িগঙ্গা থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে এক নারী, এক শিশু এবং এক তরুণ ও তরুণী রয়েছেন। তরুণ ও তরুণীর হাত বাঁধা ছিল। নারীর গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহগুলো পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এসব ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। নদীতে মরদেহ উদ্ধারের পেছনে যেমন দুর্ঘটনা ও অপমৃত্যু রয়েছে, তেমনি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তদন্তে সামনে আসছে।

কেন অপরাধের আলামত লুকাতে নদী?

নৌপুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার পর নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য—পরিচয় ও আলামত গোপন করা। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহে পচন ধরে। এতে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যেতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শরীরে আঘাতের চিহ্নও অস্পষ্ট হয়ে যায়।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নদীর স্রোতের কারণে মরদেহ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভেসে যেতে পারে। এতে যে স্থানে মরদেহ উদ্ধার হয়, সেটিই হত্যাকাণ্ড সংঘটনের স্থান কিনা, তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীরা অনেক সময় মরদেহ শনাক্ত না হওয়ার সুযোগ নিতে চায়। নির্জন নদীপাড়, সেতু ও ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে অপরাধীরা মরদেহ সরিয়ে ফেলার সুযোগ পেতে পারে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্ত না হলে তদন্তে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। কারণ, নিহত ব্যক্তির পরিচয়, সামাজিক সম্পর্ক, সর্বশেষ অবস্থান কিংবা কারও সঙ্গে বিরোধের তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা কঠিন।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নদী বা জলাশয়ে মরদেহ ফেলে দেওয়ার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার এবং অপরাধীচক্রের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইও ভূমিকা রাখতে পারে।

তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়া, হত্যার আলামত নিশ্চিহ্ন করা এবং নিজেদের সম্পৃক্ততা আড়াল করতেই মরদেহ নদীতে ফেলা হয়। আবার ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর মরদেহ গোপনের ঘটনাও ঘটতে পারে।

অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের মতে, নদীতে মরদেহ ফেলে হত্যার প্রমাণ গোপনের প্রবণতা ঠেকাতে পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

কী বলছে নৌপুলিশ?

নৌপুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ঘটনায় করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্তে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বিরোধ, মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্ব, সম্পর্কজনিত বিরোধ এবং যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড।

এছাড়া কিছু অপরাধী পরিচয় ও হত্যার আলামত গোপন করতে নদীতে মরদেহ ফেলে দেয়। নির্জন নদীপাড় ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ঘাটসহ কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নজরদারি কিংবা মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকলে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা কঠিন। কোথায় বেশি মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে, কোন পথে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব, কোন স্থানে নজরদারি দুর্বল এবং কোন ধরনের অপরাধে নদী ব্যবহৃত হচ্ছে, এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা, যা বলছেন মানবাধিকারকর্মী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো ঘিরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিংবা হত্যার পর লাশ গোপনের মতো আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত।

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের বিভিন্ন নদীতে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এসব ঘটনাকে ঘিরে নানা আশঙ্কা জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে মনে করি, প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। কোনও মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় অনুমাননির্ভর বক্তব্য বা মন্তব্য নয়, বরং প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক তদন্ত ও স্বচ্ছতা।

সবশেষ বিমানবাহিনীর একজন তরুণ সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনা এবং তার পরিবারের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে উল্লেখ করে আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, এসব ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের সুরক্ষা, প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রতিরোধে কোথায় ঘাটতি, কী করা জরুরি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি মরদেহ কোথায় পাওয়া গেছে, সেটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই জরুরি মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা। মোবাইল ফোনের তথ্য, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী, নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি এবং ডিএনএ নমুনার সমন্বিত বিশ্লেষণ অনেক ক্ষেত্রে তদন্তকে এগিয়ে নিতে পারে।

একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের  সন্দেহ রয়েছে—এমন ঘটনায় শুধু মরদেহ উদ্ধারের স্থানকে কেন্দ্র করে তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য দেশব্যাপী অনুসন্ধানযোগ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা গেলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষেও পরিচয় শনাক্তের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।