পত্রিকায় বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত এনআই অ্যাক্টের বিধান বেআইনি ঘোষণা চেয়ে রুল

নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ২০০৬ এর সংশোধীন অনুসারে—একটা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে চেক ডিসঅনারের মামলা করা যাবে— এমন বিধান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে নবিবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

দুই সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুহাম্মদ ফখর উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

আইনজীবী মুহাম্মদ ফখর উদ্দিন জানান, ২০০৬ সালে এসে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধন করা হয়। ধারা ১৩৮ (১এ) (সি) সংশোধনের মাধ্যমে বলা হলো যে নোটিশ তিনভাবে সার্ভ করা যাবে। একটা হচ্ছে হাতে হাতে দেওয়া, আরেকটা হচ্ছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে, আরেকটা হচ্ছে যেকোনো একটা বাংলা বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে। আমার যে রিট পিটিশনার, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার চেক ডিসঅনারের মামলায় তার সাজা হয়। আমার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে আমি জানতে পারি, উনি এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ওনার একটা চেক হারিয়ে গিয়েছিল ২০২২ সালে, সেই হারানো চেক দিয়ে তারা একটা চক্র এই মামলা করেছে।

তিনি আরও জানান, মামলা করার সময় তারা কেবলমাত্র নোটিশ দিয়েছে একটা পত্রিকায়। রেজিস্টার্ড ডাকযোগে কোনো নোটিশও দেয় নাই, হাতে হাতে নোটিশও দেয় নাই। কেবল একটা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটা মানুষের বিরুদ্ধে আইনি প্রসিডিং ড্র করা, এটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।

সে রিটে ২০০৬ সালের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টের যে অ্যামেন্ডমেন্ট যেটা করছে, একটা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটা লোকের বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনারের মামলা করা যাবে, এটা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেছেন বলে জানান মুহাম্মদ ফখর উদ্দিন।