তাহসিফের মৃত্যু: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মর্মে আদালতকে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন দু’দফা রিমান্ড শেষে শুক্রবার দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামির পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না।’

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য দিশাকে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানান, তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান। এর আগে সন্ধ্যায় একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ খায়। মোটরসাইকেল গ্যারেজে তাহসিফ সাউরি ও দিশা একসঙ্গে যায়। দিশা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ একসঙ্গে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তাহসিফের সঙ্গে বাইকে ঘোরাঘুরি করেছেন বলে জানান। 

এছাড়াও তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে জানিয়ে তদন্তকর্তা আবেদনে বলেন, আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান এবং নীরবতা পালন করেন।

তদন্তে সন্দিগ্ধ আরেকজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।  দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা হয়। এছাড়াও তাহসিফের মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশা একাধিকবার কথা বলার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তদন্তে দিশা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিকে পুনরায় পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারেও বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

গত শনিবার কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর রবিবার দিশাকে প্রথম দফায় চার দিন এবং দ্বিতীয় দফায় বুধবার আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

আর দীপকে গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, এরপর মঙ্গলবার তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়। দীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে গত শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।