দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্তিতে ধনী-গরিব বৈষম্য

নিউ ইয়র্ক টাইমসঅর্থের প্রাচুর্য্যতার ভিত্তিতে অভিজাত এবং সাধারণ ও মধ্যবিত্তদের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানিগুলো অর্থের বিনিময়ে অভিজাতদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করছে। এমনকি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এ বৈষম্য চালু রয়েছে। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রধান শিরোনাম প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থের ভিত্তিতে নতুন ধরনের ‘জাত’ প্রথা গড়ে ওঠছে।

অর্থের ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য নতুন কিছু নয় অবশ্য। শতাব্দীকাল ধরেই এটা চলে আসছে। এক শতাব্দী আগে টাইটানিক জাহাজের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য ছিলো চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন: বিমানে কানহাইয়ার গলা চেপে ধরলেন ‘মোদির সমর্থক’

তবে এখন অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো বিত্তশালী ক্রেতার জন্য বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা চালু করছে। অল্প কিছু মানুষের জন্য কোম্পানিগুলো নতুন এক পৃথিবীর জন্ম দিচ্ছে। যেখানে শুধু বিত্তশালীরা অবস্থান করছেন।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু প্রমোদতরী ও বিমানে যাত্রীদের অর্থের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করার উদাহরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে গোপনে বিত্তশালীদের জন্য নতুন পৃথিবী গড়ে তোলা হলেও অনেকে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েই তা করছেন। কোম্পানিগুলো, বিত্তশালীদের জন্য সব রকম সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। তাদের কর্মপদ্ধতি হচ্ছে, যে কিনতে পারবে সে সব রকমের সুবিধাই পাবে। যেমন, বিমানবন্দরে লাইনে না দাঁড়িয়ে কিংবা ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে যাতায়াত, বিশেষ রুম সার্ভিস, বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে যা যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: একজন নারী ফ্যাশন ডিজাইনারের পোশাকে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের গল্প

বার্কেলির ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতির অধ্যাপক এমানুয়েল সায়েজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১ শতাংশ দেশটির ৪২ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছেন। যা দুই দশক আগেও ছিল ৩০ শতাংশের মতো।

এমনকি অর্থনৈতিক মহামন্দার পর থেকে মধ্যবিত্তরা আয় সংকটে পড়লেও এই ১ শতাংশের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালে ১ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে মিলিয়ন ডলার মালিকের সংখ্যা বেড়েছে ৭.২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: বিয়ে নয়, জীবনসঙ্গীর মৃত্যু স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক!

পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রের দরিদ্র আমেরিকানরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির বিভাগের ছাত্র জাভিয়ের জারাবেল এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের আধুনিক রান্নার সামগ্রী, পনির কিংবা স্কচের মতো পণ্য শুধু বিত্তশালীদের কথা চিন্তা করেই উৎপাদন করা হচ্ছে। বিত্তশালীদের জন্যই নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর উৎপাদন ও পণ্যে নতুনত্ব আসছে খুব কম।

সেন্ট লুইসের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ফাজারি ও ব্যারি জেড. সিনামন এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ২০০৩ থেকে ২০১২ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর বিত্তশালী ৫ শতাংশের ব্যয় করার পরিমাণ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

এক প্রমোদতরীর কর্মকর্তা জানান, ১৯৯০ সালের পর থেকেই বিত্তশালীদের পছন্দ চাওয়া-পাওয়াতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই বড় বড় কোম্পানিগুলো নতুন নতুন সুবিধা চালু করছে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ব্যারি জে. নেলবাফ জানান, এ পরিস্থিতি ব্যবসার জন্য এবং যারা লাল গালিচা সুবিধা পাচ্ছেন তাদের জন্য ভালো হতে পারে। কিন্তু যারা এ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বঞ্চিত হওয়ার মনোভাব বৃদ্ধি পাবে।

/এএ/