সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত না হওয়া বা সময়ের আগে বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ—এখন থেকে শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা অফিস আদেশে জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অফিস ত্যাগ এবং বিলম্বে অফিসে প্রবেশ ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
তবে অফিসে যেতে দেরি শুধু শাস্তির কারণ নয়, বরং নিজের কাজের দক্ষতাকেও প্রভাবিত করে।
আমরা অনেকেই প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙে উঠে দেখি ঘড়ি আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে। অফিসের জন্য বের হওয়ার সময়ের হিসাব মিলছে না, যানজট আমাদের পথ আটকে রেখেছে।
অপরদিকে, কিছু মানুষ রাতভর সোশ্যাল মিডিয়ায় আটকে থেকে সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। এমনকি কখনও কখনও পরিবারের ছোটদের বা বয়স্কদের খেয়াল রাখতে গিয়ে অফিসে পৌঁছানো সময়মতো সম্ভব হয় না।
তবে সামান্য পরিকল্পনা, কিছু অভ্যাস বদল এবং সঠিক রুটিন মেনে চললেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
রাতে প্রস্তুতি নিন
আগের রাতেই কাপড়, ব্যাগ ও নোটবুক প্রস্তুত রাখুন। সকালে সময় বের করতে গিয়ে হেলাফেলা হওয়ার সম্ভাবনা কমে। পাশাপাশি, রাতে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে যতটা সম্ভব স্ক্রিনটাইম পরিহার করুন।
সময় হিসাব করুন
যানজট বা আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে নির্ধারিত সময়ের ১০–১৫ মিনিট আগে বেরোন। গুগল ম্যাপ বা ট্রাফিক অ্যাপ দিয়ে রিয়েল‑টাইম ট্রাফিক চেক করুন।
আলার্মের সঙ্গে “প্রস্তুতি টাইমার”
শুধু ঘুম ভাঙার জন্য আলার্ম নয়, একই সঙ্গে “মুভ টাইমার” সেট করুন। এটি মনে করিয়ে দেবে, কখন ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং কবে বের হতে হবে।
যানবাহন এবং রুটের বিকল্প রাখুন
বাস, রিকশা, রাইড‑শেয়ার—যেকোনও অবস্থায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ এবং যানবাহন আগে থেকেই মাথায় রাখুন।
সকালের রুটিন সহজ রাখুন
চা‑কফি, ব্যাগ সাজানো, ইমেইল চেক—সকালের ছোট ছোট কাজগুলো সহজ করুন। জটিল বা সময়সাপেক্ষ কাজ সকালে করলে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো মানলেই অফিসে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব, এবং দিনের শুরু হবে শান্ত ও কার্যকর। সামান্য পরিকল্পনা দিয়ে সময়কে নিজের সুবিধার্থে ব্যবহার করুন।