বাবার জুতায় পা গলিয়ে গুটি গুটি পায়ে হাঁটা কিংবা বাবার টাই গলায় ঝুলিয়ে অফিসে যাওয়ার প্রচেষ্টাহীন শৈশব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায় শৈশব, বাড়ে কাজের ব্যস্ততা। তবে ভালোবাসা কী আর কমে? একদমই নয়! কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন তো, সামর্থের সবটুকু দিয়ে হলেও যে বাবা দেখতে চান সন্তানের হাসিমাখা মুখ তার জন্য ক্লাস, কম্পিউটার কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে কতোটুকু ফুসরত মিলছে আপনার? কাজের ব্যস্ততায় ভালোবাসা প্রকাশের সময়টুকুও হারিয়ে ফেলছেন না তো?
আজ ১৯ জুন বিশ্ব বাবা দিবস। অনেকদিন বাবার সঙ্গে হয়তো সময় কাটানো হয়ে উঠছে না। আজকে কিছুটা সময় আলাদা করে রাখুন কেবল বাবার জন্যই! বাবার সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে অভিমান চলতে থাকলে এদিন মিটিয়ে ফেলুন সেটাও। হয়তো বাবাকে কখনও সেভাবে উপহার দেওয়া হয়ে ওঠে না। বাবা দিবস উপলক্ষে তাই বাবার জন্য বিশেষ কিছু কিনে নিতে পারেন এখনই। উপহার যে খুব দামি হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। উপহার যাই হোক, সেটার পেছনে ভালবাসার প্রকাশ থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি।
চশমা, ঘড়ি, কলম, প্যাড, পাঞ্জাবি বা শার্ট দিতে পারেন বাবাকে উপহার হিসেবে। অথবা সুন্দর একটি ফটোফ্রেমে বাবার সঙ্গে তোলা আনন্দময় মুহূর্তের একটি ছবি বাঁধাই করে চিরভাস্বর করে রাখতে পারেন বিশেষ দিনটি। অফিসের টেবিলে সাজিয়ে রাখার জন্য পেপার ওয়েট বা কলমদানি উপহার দিতে পারেন। বাবার শখের কোনও জিনিস কিনে দিতে পারেন। পছন্দের গায়কের গানের সিডি হতে পারে চমৎকার উপহার।
একেবারে ভিন্ন ধরনের কিছু দিতে চাইলে নিজেই কাগজ কেটে তৈরি করে নিন নকশা করা একটি কার্ড। অথবা সৃজনশীল কাজের উপর ঝোঁক থাকলে নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন সুন্দর একটি গিফট পট। উপরে কাগজ দিয়ে টাইয়ের তৈরি করে লাগিয়ে দিন। গিফট পটে থাকতে পারে বাবার পছন্দের ছোট ছোট বিভিন্ন জিনিস।
বাবা যা খেতে পছন্দ করেন, তা নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতে পারেন। সম্ভব হলে আজেক বাবাকে নিয়ে তার প্রিয় কোনও জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসুন। এতে সম্পর্কের জড়তা ও ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাবে।
সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসায় গভীরতা আরও একবার অনুভব করতে শেখাক বিশেষ দিনটি। পৃথিবীর সব বাবাকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।
/এনএ/