ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বরগুনার পৌর নাথপট্টি লেক প্রাঙ্গণ। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো মানুষের ঢল নাথপট্টি লেকে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষই ভিড় করছে নাথপট্টি লেকে।
দর্শনার্থী সুমন বলেন, এ বছর ঈদের দু’ তিনদিন আগ থেকে বৃষ্টি হওয়ায় কেউ বাইরে কোথাও যেতে পারেনি। তাই স্থানীয় ও ঈদ উপলক্ষে দূর থেকে আসা বরগুনাবাসীর প্রাণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই লেকটি।
লেকে ঘুরতে আসা আসাদুল, সোহেল, সবুজ, দেলোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক দিন পরে বন্ধুরা এক হয়েছি। তাই ঈদের পর সবাই এক সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার জন্য লেকে আসলাম। ভালোই লাগছে বরগুনায় এমন একটি বিনোদনের জায়গা থাকায়।
লেকে বেড়াতে আসা লামিয়া, কান্তা, উর্ম্মিসহ বেশ কয়েকজন জানান, বেশ কিছুদিন বৃষ্টি তাই কোথাও যাওয়া হয়নি। পরিবারের সব মেয়েরা লেকে আসলাম। মজা করছি, আড্ডা দিচ্ছি, ফুসকা, চটপটি খাচ্ছি ভালোই লাগছে।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, বৃষ্টি কিছুটা সমস্যা হলেও বিনোদন প্রিয় পরিবারের সদস্যদের ঘরে বন্দি করতে পারিনি । তাইতো ছুটে এসেছি লেকে। এখানে এসে স্কুল জীবনের বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো।
এই লেককে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও বসেছেন নানা বাহারি সব সামগ্রী নিয়ে। শিশুদের জন্য নানা রঙের বেলুন, পুতুল ও বিভিন্ন খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ফুসকা, চটপটি, লুডুলসসহ বিভিন্ন খাবার।
লেকের পাশে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানি মো. ইব্রাহীম বলেন, ঈদ উপলক্ষে লেকে দর্শনার্থী অনেক বেড়ে গেছে। তাই আমাদের বেচাকেনাও বেড়েছে।
বরগুনা পৌর মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বরগুনার মানুষের কোনও বিনোদনের স্থান ছিল না। নাথপট্টি লেক নির্মাণের পরে বিনোদনের জন্য দর্শনার্থীরা এখানে আসে। তবে ঈদে দর্শনার্থী সংখা অনেক বেড়ে যায়। এছাড়াও সার্কিট হাউজ এলাকা দর্শনার্থীদের বিনোদনের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানে শুধু ঈদ কিংবা কোন উৎসব নয় প্রতিদিনই মানুষের সমাগম ঘটে।
ঈদ উপলক্ষে বরগুনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা্র জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন। বিনোদনের স্থানগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) বিজয় বসাক পিপিএম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে পুরো জেলা জুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাথপট্টি লেক ও সার্কিট হাউজ এলাকায় স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও টহল পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও লেকে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকি করছেন। বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাটে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদ পরবর্তী আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ঐতিহ্যবাহী নাথপট্টি লেকটির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের শেষ দিকে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
/বিটি/