আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। হাত ধোয়া নিয়ে এক গবেষণায় দেখে যায়- বিশ্বব্যাপী মাত্র ৬৭ শতাংশ লোক শৌচকর্মের পর হাত ধোয়। মেয়েদের মধ্যে এ হার বেশি—৭৫ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৮ শতাংশ।আমেরিকান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার মতো সভ্য দেশে হাত না ধোয়ার কারণে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ লোক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হাত না ধোয়ার কারণে তাদের প্রতিবছর চিকিৎসা খাতে খরচ হয় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের টাকায় কয়েকশ কোটি টাকা।
প্রতিদিন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অভ্যাসে পরিণত করতে এ দিনটি সারা বিশ্বের মানুষদের অনুপ্রাণিত ও সংগঠিত করে থাকে। নানা রোগবালাই প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া যে জরুরি, দিবসটি মানুষের মাঝে সে সচেতনতাও জাগ্রত করে।
দিবসটি পালনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ উপলক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করবে। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
হাত ধোবেন শৌচকর্মের পর, খাবারের আগে, হাঁচি-কাশির পর, পশুপাখি ধরলে, ময়লা-আবর্জনা ঘাঁটলে, অসুস্থ রোগীর সেবাযত্নের আগে ও পরে, খাবার রান্না করার আগে-পরে, চোখে হাত দেওয়ার আগে, হাতে মাটি লাগলে। অনেক মা বাচ্চাদের মলকে খারাপ মনে করেন না। এটা খুবই ভুল একটি কথা। বাচ্চার ডায়াপার, মল পরিষ্কারের পর অবশ্যই ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। নবজাতককে হাত না ধুয়ে কোলে নিলে তার ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন, সেপসিসের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই সাবধান। বাইরে খেলাধুলার পর শিশুদের হাত ধুতে উৎসাহিত করুন।
পানিতে হাত ধুলে ময়লা চলে যাবে ঠিক, কিন্তু তা জীবাণুমুক্ত হবে না। তাই প্রথমে পানিতে হাত ভালো করে ভিজিয়ে নিন। ভালো করে সাবান লাগান। ঘষে ফেনা তুলুন।শুধু হাতের সামনের অংশ পরিষ্কার করবেন না। হাতের পেছনের অংশ, দুই আঙুলের মাঝের অংশ, নখের নিচের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করুন। সাবান হাতে কতক্ষণ রাখবেন, কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে ভালো করে হাত শুকিয়ে নিন। হাত মোছার জন্য অন্যের ব্যবহৃত তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।
/এফএএন/