মাহি লস্ট ইন ট্রানজিশন!

‘আমি আঁকি, কারণ এই কাজে নিজেকে কখনও জোর করতে হয় না। শিল্প আমাকে অভিভূত করে এবং ভাসমান আবেগ ও আমার অস্তিত্বহীন ভাবনার সমাধিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। সময়ের উপলব্ধি আমার কাছে অস্পষ্ট কিন্তু সুখ পাই এই ভেবে যে আমার বর্ণগুলো মনে ধরে আছে’ – কথাগুলো তরুণ শিল্পী আফ্রিদা তানজিম মাহির। তিনি শুধু আঁকতেন, কখনও দেয়ালে কখনও চাদরে। মাহির আঁকার মধ্যে রহস্য ছিল প্রচুর। কারণ তার আঁকার বিষয় ছিল পরিবর্তনশীল আকৃতি এবং পছন্দ করতেন তাতে উত্তেজনার ঘাই দিতে।  

যখন অন্য সবকিছু তাকে নীরব রাখতো তখন রং তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যস্ত রাখতো। নিরাশার চাদরে তার অভিব্যক্তি ঘটতো শুধু আঁকায়। বিষণ্ণতার রং নীল আর ক্রোধের লাল। তিনি মনে করেন সব রংই ছুঁয়েছেন কিন্তু কিছুই আঁকা হয়নি। এ কথাগুলো শিল্পীর নিজের। পৃথিবীর সব কিছু তার এক জায়গায়তেই গিয়ে মিলে যায়, যাকে মাহি নিজের স্টুডিও বলতেন। তার রংগুলো রাখা হতো জুতো রাখার জায়গার পাশেই যেখানে শূন্য ক্যানভাসগুলো থাকতো। মাহি বলতেন, ‘আমার আর্ট আমার অস্তিত্বের জানান দেয়, আমার শত না বলা গল্পের প্রতিচ্ছবি হলো আমার আর্ট।’

তার কাজগুলো ছিল এলোমেলো কিন্তু রহস্যজনক। তার তুলির দেয়া স্ট্রোক মানুষকে ভাবতে শেখায়। তার আঁকাতে মানুষ সহসাই রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যেতে পারে। হয়তো আত্মপ্রেরণা থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন একক প্রদর্শনী করার। শেষমেশ তাই করলেন। মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের কালা কেন্দ্রে গত ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে তার প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর নাম ‘লস্ট ইন ট্রানজিশন।’ খুব সাধারণ একটি নাম রেখেছিলেন তিনি। গুণে গুণে ৪ দিন পর ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় খবর এলো মাহি আর নেই। হারিয়ে গেছেন রহস্যের গোলকধাঁধায় সবাইকে একা ফেলে। নিজের স্বপ্ন পূরণ না করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে পরদিন কথা হলো কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমানের সাথে। তিনি জানালেন, পরিবার থেকে কিছু না বললে প্রদর্শনী আমরা চালিয়ে যাব। তিনি মনে করেন এখন সঠিক সময় না এ ব্যাপারে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার। প্রদর্শনীতে তার ছবিগুলোকে ৭টি ব্লকে সাজানো হয়েছে। আছে নানা মিডিয়ামের আঁকা। প্রদর্শনী চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

আফ্রিদা তানজিম মাহি

মাহি আজ নেই, আছে তার শিল্প এবং কিছু স্মৃতি।