মাইলের পর মাইল জুড়ে ধনেপাতা ক্ষেত। চমৎকার সুঘ্রাণে মাতোয়ারা চারিদিক। ধনেপাতার গাঢ় সবুজ গাছের ছোট্ট সাদা ফুলগুলো দুলে উঠছে বসন্তের স্নিগ্ধ বাতাসে। কিছুদূর এগুলেই পেঁয়াজের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ নাকে আসবে। কারণ সামনেই পেঁয়াজ ক্ষেত। আরেকটু সামনেই রয়েছে টমেটো ক্ষেত। পায়ে পায়ে এগুলে দেখা মিলবে কালিজিরা ক্ষেতের। একটু লক্ষ করলে দেখবেন বাতাসের গন্ধটা কেমন বদলে গেছে। মসলার মিশ্র গন্ধ তখন বাতাসে।
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় মিলবে এমন চমৎকার কিছু ক্ষেত। মাওয়া ঘাট থেকে খুব সহজেই চলে যেতে পারবেন এখানে। দিনে গিয়ে সুন্দর কিছু সময় কাটিয়ে দিনে দিনেই ফিরে আসা যায় এখান থেকে। ফিরে আসার সময় মাওয়ার টাটকা ইলিশ ভাজা দিয়ে গরম গরম ভাতও খেয়ে আসতে পারেন।
ঢাকা থেকে বাসে করে মাওয়া ঘাটে চলে যান। গুলিস্তান থেকে মাওয়ার বাস ছাড়ে কিছুক্ষণ পর পরই। মাওয়া ঘাটে নেমে লঞ্চ, নৌকা অথবা স্পিড বোটে চলে যান জাজিরা। স্পিড বোটে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। জাজিরা ঘাটে নেমে একটু এগিয়ে অটো নিয়ে নিন। ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া করাই সবচেয়ে ভালো। গ্রাম ও ক্ষেত ঘুরে দেখতে চান বললেই অটোওয়ালা আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাবে। ইচ্ছে মতো থেমে ও নেমে দেখতে পারবেন বিশাল সব ক্ষেত।
চলে যেতে পারেন কাজির হাট। এখানে পাইকারি দরে বিক্রি হয় বিভিন্ন মসলা ও টমেটো। ফেরার সময় একইভাবে ফিরে আসুম মাওয়া ঘাট। ইলিশ দিয়ে গরম ভাত খেতে রওনা দিন ঢাকার উদ্দেশে। চমৎকার একটি দিনের স্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারবেন নিশ্চিত।
সাবধানতা
- ক্ষেত ঘুরে দেখতে গিয়ে যেন ফসল নষ্ট না হয়।
- পলিথিন বা এমন কিছু ফেলে আসবেন না যেটা অপচনশীল।
- স্পিড বোটে ফিরতে চাইলে দিনের আলো থাকতে থাকতেই ফিরে আসুন।