লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধে চলচ্চিত্র উৎসব

‘লিঙ্গ, পুরুষত্ব, যৌনতা এবং বৈচিত্র্য’ থিমকে সামনে রেখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সমভাব ট্র্যাভেলিং ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে ১৮টি শহরের পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ এই চলচ্চিত্র উৎসব। আয়োজনে এমন কিছু পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচন করা হয়েছে, যেগুলো লিঙ্গ সংবেদনশীলতা, নারী পুরুষের সমসাময়িক এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতির গল্প।

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন ঢাকার ছায়ানটে শুরু হয় গতকাল ২১ আগস্ট। চলচ্চিত্রকার শামীম আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন। প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রধান বুশরা সুলতানা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের শিক্ষক সাবিনা ফাইজ রাশেদ এবং সমভাব চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক হারিস সাদানি।

আজ সোমবার (২২ আগস্ট) দ্বিতীয় দিন সমাপনী আলোচনা অংশে অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অভিনেত্রী সারা যাকের, নারী অধিকারকর্মী খুশি কবীর এবং উৎসবের মূখ্য আয়োজক হ্যারিস চন্দ্র। 

এসময় সারা যাকের বলেন, ‘এখনো অনেক গোঁড়ামি আমাদের সমাজে আছে, আমাদের সমাজটা পিতৃতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

বাংলাদেশসহ ৪টি দেশের ১৯টি শহরে উৎসবটি আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা পর্বে পুরস্কার বিজয়ী ও উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কিচেন, নাটখত, হৃদয় বোসট, আনটাইং দ্য নট, মাইদা, ব্ল্যাক রোজেস অ্যান্ড রেড ড্রেসেস, ভাপ, সানডে, ডার্লিং এবং তুলোনি বিয়া।

আয়োজকরা বলছেন, উত্‍সবের লক্ষ্য হলো লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ, হুমকিমুক্ত প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা এবং সমাজে চলমান পার্থক্যগুলোকে সামনে এনে লিঙ্গবৈচিত্র্যের স্বাভাবিকতাকে সামনে আনা। উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো লিঙ্গবৈষম্যের বিভিন্ন রূপ, নারীর প্রতি সহিংসতা, ট্রান্সফোবিয়া, লিঙ্গ বাইনারি, পুরুষত্বের মতো বিষয়গুলো উপস্থাপন করে।

চলচ্চিত্র উৎসবটির মূল উদ্যোক্তা ভারতের মেন অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স অ্যান্ড অ্যাবিউস (এমএভিএ)-এর কো-অর্ডিনেটর নেলসন দেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সিনেমা ও শর্ট ফ্লিম স্লট আকারে দেখানো হচ্ছে। প্রদর্শনীর মাঝে রাখা হচ্ছে আলোচনা পর্ব, যেখানে বিশিষ্টজন ও বিশেষজ্ঞদের সাথে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নিচ্ছেন দর্শকরা। আমাদের উদ্দেশ্য তরুণদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।’

ঢাকায় চলচ্চিত্র উৎসবটির যৌথভাবে আয়োজন করেছে ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক ইন ঢাকা, ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশ।