প্রশ্ন: আমার বিয়ে হয়েছে বারো বছর যাবত, আমাদের একটা সন্তান আছে। কিন্তু আমি কয়েক বছর যাবত লক্ষ করছি, আমার স্বামীর সহবাসে তেমন আগ্রহ নেই। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই হস্তমৈথুন করে। এখন আমি কী করবো? তার এই সমস্যা কি কোনও দিন ঠিক হবে না? আমি আমার সংসার বাঁচাতে চাই।
উত্তর: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করার জন্য। বিবাহিত পুরুষের মধ্যে হস্তমৈথুনের অভ্যাস স্বাভাবিক। সুতরাং আপনার স্বামীর হস্তমৈথুন নিয়ে আপনার উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। আপনার স্বামীর মধ্যে যদি পরকীয়ার প্রবণতা না থাকে তাহলে, তাহলে শুধু উনার হস্তমৈথুনের অভ্যাসের কারণে আপনার সংসার ভেঙে যাবারও কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে উনার এই অভ্যাসের কারণে যদি আপনার শারীরিক চাহিদা পূরণে সমস্যা হয়, তবে আপনি এ ব্যাপারে সরাসরি আপনার স্বামীর সাথে আলোচনা করতে পারেন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ এবং আধুনিক মনোভাবাপন্ন কোনও মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। পঁচানব্বই শতাংশ পুরুষ এবং সত্তর শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় কোনও না কোন পর্যায়ে হস্তমৈথুন করে। মানুষ ছাড়াও শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, লেমুর, তিমি, ডলফিন,সিন্ধুঘোটক, হাতি, ঘোড়া, হরিণ, কাঠবিড়ালি, বাদুড়, গিরগিটি, ইগুয়ানা, কচ্ছপ, পেঙ্গুইনসহ অন্যান্য প্রাণীদের নারী ও পুরুষ সদস্যদের মধ্যে প্রচলিত একটি স্বাভাবিক জৈব বিবর্তনীয় আচরণ হস্তমৈথুন। যদিও চিকিৎসা পেশাজীবী এবং বিজ্ঞানীরা প্রচুর প্রমাণ পেয়েছেন যে হস্তমৈথুন স্বাস্থ্যকর, তথাপি অনেক মানুষই একে কলংকজনক অভ্যাস মনে করে। হস্তমৈথুন করে এমন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষদের অর্ধেকই এর জন্য অপরাধবোধে ভোগেন যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
প্রশ্ন: কর্মক্ষেত্রে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের শিকার হলে কী করণীয়? দিনদিন কাজের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি এই কারণে।
উত্তর: আপনাকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি আপনার বর্তমান কর্মক্ষেত্রেই শুধু বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের শিকার হচ্ছেন। অতীত কর্মক্ষেত্রেও কি একই আচরনের শিকার হয়েছিলেন? আপনাকে আরও নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি আপনার কর্মক্ষেত্র ছাড়া পারিবারির, সামাজিক, শিক্ষা, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষেত্রে, এরকম বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের শিকার হচ্ছেন না বা হননি। যদি আপনি অন্য কোথাও বিদ্বেষের শিকার না হন, তাহলে ধরে নিতে হবে, সত্যিই আপনি অত্যন্ত বৈরী পরিবেশে ঘটনাক্রমে চলে এসেছেন। সেক্ষেত্রে এটা থেকে পরিত্রাণের পথ না খুঁজে এটাকে কষ্টসহিষ্ণুতা অনুশীলনের ক্ষেত্র হিসাবে দেখুন। জীবনটাকে ইমার্সিভ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম হিসেবে দেখুন। কর্মক্ষেত্রে কারোর আচরণ যদি খারাপ লাগে, পারলে তার প্রতিবাদ করুন। না পারলে তা মেনে নিন। পরে নিজের কাছে খারাপ লাগলে সেটাও আপনাকে মেনে নিতে হবে। যতক্ষণ আপনি আপনার জীবনের দায় নিজে না নিয়ে অন্যের কৃপায় বেঁচে থাকবেন, অন্যদের খারাপ ব্যবহারের কথা ভেবে নিজে কষ্ট পেতে থাকবেন, ততোদিন কেউই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। আপনাকে কষ্টসহিষ্ণু হতে হবে এবং কষ্টসহিষ্ণুতা শেখার কোনও সহজ পদ্ধতি নেই। কষ্ট পাওয়ার মাধ্যমেই সব মানুষকে কষ্টসহিষ্ণুতা শিখতে হয়। আপনিও এর ব্যতিক্রম নন। সুতরাং কষ্টকে এড়ানোর চেষ্টা না করে একে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। যদি আপনি অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিদ্বেষের শিকার হন, তাহলে বুঝতে হবে জীবনের প্রতি আপনার আপনার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিটাই হচ্ছে নেগেটিভ। আপনার কাছে দুনিয়ার পুরো মানুষ জাতটাই খারাপ এবং আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ। সেক্ষেত্রে, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে উপযুক্ত কোনও কাউন্সিলর বা মনেচিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।