রঙিন কাগজ নিয়ে কাটাকুটি খেলা কিংবা সাদা কাগজে রঙ পেন্সিল দিয়ে আঁকিবুঁকি। নেই কোনও সুনির্দিষ্ট নিয়মের বেড়াজাল। ইচ্ছে মতো কল্পনার জগত সাজিয়ে নিজেকে মেলে ধরার এই প্রচেষ্টাই ধীরে ধীরে গড়ে তোলে শিশুর সৃজনশীলতা। সৃজনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্যও ভীষণ জরুরি ক্র্যাফটিং।
যেভাবে ক্র্যাফটিং শিশুর সঠিক বিকাশে ভূমিকা রাখে
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্সের শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক ফারিহা রহমান জানান, ক্র্যাফটিংয়ের মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীলতা, নতুন কিছু তৈরি করা, আনন্দের সাথে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হয়। শিশুর ফাইন মোটর স্কিল যেমন চোখ ও আঙুলের সমন্বয় এবং চোখের বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশুর কল্পনা ও একাগ্রতার বিকাশ ঘটে। চমৎকার কিছু তৈরির মাধ্যমে শিশুর আত্নবিশ্বাস বাড়ে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। শিশুর সামাজিক দক্ষতাও উন্নত করে ক্র্যাফটিং।
বর্তমানে শিশুরা বাইরে গিয়ে খেলার পরিবেশ পায় না। বিশেষ করে শহরের শিশুরা একেবারেই ঘরবন্দি থাকে। তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত খেলার জায়গা বা খোলা মাঠ। এতে মোবাইল বা গ্যাজেট আসক্তি আশংকাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের মধ্যে। ডিভাইস আসক্তির ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর মানসিক বিকাশ। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে গ্যাজেট থেকে দূরে রাখতে ক্র্যাফটিংয়ের বিকল্প নেই।
শিশু ক্র্যাফটিং শুরু করবে কোন বয়সে?
ফারিহা রহমান জানান, চার বা সাড়ে চার বছর বয়স হলেই শিশুকে ক্র্যাফটিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন রঙিন কাগজ দিয়ে বা সাদা কাগজ দিয়ে অর্থবোধক কিছু তৈরি করা। সেটা হতে পারে কাগজের ফুল, নৌকা, পাখা বা পশু-পাখি। কাগজ কেটে যেকোনো কিছু আকৃতি তৈরি করা যেতে পারে। মাটি দিয়ে বল বা পুতুল তৈরি করাও শিশুদের জন্য চমৎকার আনন্দের কাজ হতে পারে।
শিশুকে সৃজনশীল করে তুলতে আরও যা করণীয়
- শিশুকে ড্রয়ং করতে দিন। এতে তার কল্পনাশক্তি বাড়বে।
- শিশুকে পাজল ও ক্লে ধরনের খেলনা দিন। এগুলো দিয়ে তারা নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে শিখবে।
- বাসায় গাছ থাকলে শিশুকে পরিচর্যা শেখান। তাকে সঙ্গে নিয়েই গাছের যত্ন করুন।
- শিশুকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে শেখান। ছোট ছোট কাজে উৎসাহ প্রদান করুন।
- গান, নাচ, আবৃতি, কারাতে প্রশিক্ষণে উৎসাহ দিতে পারেন শিশুকে।