ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষ হলেই বাতাসে এক ধরনের আলাদা আবহ ছড়িয়ে পড়ে। গোলাপের রং, চকলেটের মিষ্টতা আর অনুভূতি প্রকাশে রাঙা হয়ে ওঠে পুরো সপ্তাহ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিই পরিচিত ভ্যালেন্টাইন মৌসুম বা ভ্যালেন্টাইনস উইক নামে। এই সাত দিনে ভালোবাসা প্রকাশের সাতটি ভিন্ন উপলক্ষ রয়েছে, প্রতিটির রয়েছে নিজস্ব অর্থ ও রীতিনীতি।
গোলাপ যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা ও আবেগের প্রতীক। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে ফুল দিয়ে অনুভূতি জানানোর ঐতিহ্য থেকেই রোজ ডের প্রচলন।
করণীয়
এদিন প্রিয়জনকে গোলাপ দিন। রঙ বাছাইয়ে ভাবনায় থাকুক লাল প্রেমের, হলুদ বন্ধুত্বের, সাদা সম্মানের প্রতীক। সঙ্গে একটি ছোট নোট দিলে মুহূর্তটা আরও ব্যক্তিগত হয়।
ভালোবাসার কথা স্পষ্ট করে বলার দিন। না বলা অনুভূতিকে সাহস করে প্রকাশ করার সুযোগ এনে দেয় এই দিন।
করণীয়
সরাসরি বা সৃজনশীলভাবে নিজের অনুভূতি জানান। হাতে লেখা চিঠি, কবিতা, কিংবা ছোট কোনও সারপ্রাইজ হতে পারে প্রস্তাবের মাধ্যম।
চকলেটকে ধরা হয় আনন্দ ও মিষ্টতার প্রতীক হিসেবে। সম্পর্কের তিক্ততা ভুলে মধুরতা বাড়ানোর ভাবনা থেকেই এই দিনের প্রচলন।
করণীয়
প্রিয়জনের পছন্দের চকলেট উপহার দিন। চাইলে নিজের হাতে বানানো চকলেট দিয়েও চমকে দিতে পারেন।
টেডি বেয়ার কোমলতা ও নির্ভরতার প্রতীক। শিশুদের খেলনা হলেও ভালোবাসার আদুরে প্রকাশের অন্যতম দিবস হিসেবে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
করণীয়
একটি টেডি উপহার দিয়ে জানান- আপনি সবসময় পাশে আছেন। দূরে থাকা সম্পর্কের জন্য এটি বেশ অর্থবহ।
ভালোবাসা টিকে থাকে বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির ওপর। সেই প্রতিশ্রুতিগুলো নতুন করে মনে করিয়ে দেয় প্রমিস ডে।
করণীয়
বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দিন। যেমন সম্মান, সততা ও পাশে থাকার আশ্বাস। অতিরঞ্জিত কথার চেয়ে ছোট কিন্তু আন্তরিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট।
একটি আলিঙ্গন অনেক কথার চেয়ে বেশি অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। মানসিক উষ্ণতা ও নিরাপত্তার প্রতীক এই দিন।
করণীয়
প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করুন। শব্দ ছাড়াই ভালোবাসা জানান। সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য সুন্দর জীবনে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ভালোবাসার ঘনিষ্ঠ প্রকাশ হিসেবে কিস ডে জনপ্রিয়তা পেয়েছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে।
করণীয়
সম্পর্কের পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আবেগ প্রকাশ করুন। এই দিনেও সম্মতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই দিনের নাম এসেছে খ্রিস্টান ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম থেকে, যিনি ভালোবাসার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলে কিংবদন্তি রয়েছে।
করণীয়
উপহার, সময় আর যত্ন; সব মিলিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলুন। তবে এদিন সবচেয়ে বড় উপহার হলো একসঙ্গে সময় কাটানো।