পুরুষদের কি সত্যিই নারীদের তুলনায় বেশি ক্যালরি খাওয়ার প্রয়োজন হয়? সাধারণভাবে এর উত্তর ‘হ্যাঁ’। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বয়স, শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস—এসব বিষয়ও একজন মানুষের দৈনিক ক্যালরির চাহিদা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যের লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স পুষ্টিবিদ বেথান ক্রাউস বলেন, “সাধারণভাবে বলতে গেলে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের ক্যালরি বেশি খাওয়া প্রয়োজন।” তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি এমন কোনও নিয়ম নয়, যা সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য।
মানুষ চলাফেরা, কাজকর্ম, ব্যায়াম থেকে শুরু করে ঘুমানোর সময়ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্যালরি ব্যয় করে। সাধারণভাবে ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ক্যালরি এবং পুরুষদের প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্যালরি প্রয়োজন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়। তবে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা ভিন্ন। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তির চাহিদাও কমে যায়। ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সে তা কমতে শুরু করে এবং ৭৫ বছরের পর আরও হ্রাস পায়।
তবে এই গড় হিসাব সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তিভেদে ক্যালরির চাহিদায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
পুরুষদের সাধারণত বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের বিশ্রামকালীন বা মৌলিক বিপাকীয় হার তুলনামূলকভাবে বেশি। অর্থাৎ, কোনও কাজ না করেও বিশ্রাম অবস্থায় তারা সাধারণত বেশি শক্তি ব্যয় করেন।
এর মূল কারণ শরীরের গঠনের পার্থক্য। গড় হিসেবে পুরুষদের শরীরে চর্বিহীন পেশির পরিমাণ বেশি থাকে, আর নারীদের শরীরে চর্বির অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশি। যেহেতু পেশি চর্বির তুলনায় বেশি ক্যালরি পোড়ায়, তাই পুরুষদের বিশ্রামকালীন শক্তি ব্যয়ও সাধারণত বেশি হয়।
তবে একই উচ্চতা, একই বয়স ও একই ওজনের একজন পুরুষ এবং একজন নারীর ক্যালরির চাহিদাও এক নাও হতে পারে।
পেশির এই পার্থক্য মূলত খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের কারণে নয়, বরং হরমোনের প্রভাবে সৃষ্টি হয়। পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা পেশির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ফলে একই উচ্চতা, বয়স, ওজন এবং একই ধরনের ব্যায়াম করলেও একজন পুরুষ ও একজন নারীর ক্যালরির প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তবে বেথান ক্রাউসের মতে, এখানেও ব্যক্তি ভেদে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি একজন খুবই পেশিবহুল নারী এবং একজন গড়পড়তা পুরুষের তুলনা করা হয়, তাহলে সেই নারীর বিশ্রাম অবস্থাতেই ওই পুরুষের তুলনায় বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হতে পারে। আবার তিনি যদি নিয়মিত বেশি ব্যায়াম করেন, তাহলে তার ক্যালরির চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।
দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলেও বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ক্যালরি সীমিত করলে শরীরের মৌলিক শক্তির চাহিদা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, শরীর তার বিপাকক্রিয়ার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়, ফলে আগের তুলনায় কম শক্তি ব্যয় করতে শুরু করে।
প্রতিদিন ঠিক কত ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং ওয়েবএমডির প্রকাশিত নির্দেশিকাও এ বিষয়ে সহায়ক হতে পারে।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স পুষ্টিবিদ বেথান ক্রাউসের বক্তব্য, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) এবং ওয়েবএমডি।