হরমোনের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই নারীদের স্বাস্থ্য, মাসিক, গর্ভধারণ কিংবা মেনোপজের বিষয়গুলো আসে। ফলে অনেকেই মনে করেন, হরমোনের সমস্যা যেন শুধু নারীদেরই বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নারী-পুরুষ উভয়েরই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, মানসিক অবস্থা, বিপাকক্রিয়া, ঘুম, প্রজননক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য হরমোন সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই হরমোনজনিত সমস্যা শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও হতে পারে এবং এর প্রভাবও কম নয়।
যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট (হরমোন বিশেষজ্ঞ) ডা. সায়রা হামিদ বলেন, “হরমোন শুধু নারীদের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের ওপরই সমানভাবে প্রভাব ফেলে।”
যদিও নারীদের মাসিক এবং মেনোপজের মতো বিষয় রয়েছে, যেখানে হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বাস্তবে পুরুষ ও নারী উভয়ের শরীরেই একই ধরনের হরমোন থাকে।
হামিদ বলেন, “নারীদের শরীরে টেস্টোস্টেরন থাকে, পুরুষদের শরীরেও টেস্টোস্টেরন থাকে। নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন থাকে, আবার পুরুষদের শরীরেও ইস্ট্রোজেন থাকে। মূল পার্থক্য হলো, পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকে এবং নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে।”
হামিদ আরও বলেন, “আমি যদি কারও থাইরয়েডের কার্যকারিতা সম্পর্কিত রক্ত পরীক্ষার ফলাফল দেখি, তাহলে সেটি পুরুষের নমুনা নাকি নারীর নমুনা—তা বলতে পারবো না। কর্টিসল, ইনসুলিন এবং রক্তে শর্করার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রজনন বিষয়টিকে একপাশে রাখলে, হরমোনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও নির্দিষ্ট ‘পুরুষ’ বা ‘নারী’ বৈশিষ্ট্য নেই।”
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের প্রজনন অন্তঃস্রাববিদ্যার অধ্যাপক এবং এনএইচএস ও বেসরকারি খাতের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. চান্না জয়াসেনা বলেন, “টেস্টোস্টেরন শুধুমাত্র সেই পুরুষদের দেওয়া উচিত, যাদের শরীরে এর মাত্রা কম বা অপর্যাপ্ত।”
এই পরিস্থিতিতে এটি ‘অত্যন্ত নিরাপদ’ বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “এটি আক্রমণাত্মক আচরণ সৃষ্টি করে না। বরং এটি মানুষের মেজাজ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।”
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন ব্যবহার করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, কিছু পুরুষ পেশি বাড়ানোর জন্য অ্যানাবলিক স্টেরয়েড গ্রহণ করেন।
জয়াসেনা বলেন, “তারা শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় শতগুণ থেকে হাজারগুণ বেশি মাত্রায় এটি গ্রহণ করতে পারেন। এত বেশি মাত্রায় টেস্টোস্টেরন মস্তিষ্কের লিম্বিক ব্যবস্থা বা আবেগ-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে।”
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান ও বিবিসি।









