সকালের ব্যস্ততায় কত কিছুই তো মনে থাকে না। গোসল করে অফিসে পৌঁছে হঠাৎ আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চুলটা কেমন তেলতেলে ও আঠালো। হাত দিয়ে বুঝলেন, শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি ধুয়ে ফেলতেই ভুলে গিয়েছেন। চুলে ধুলো লেগে ভারী লাগছে, অথচ এখন আর বাড়ি ফিরে গোসল করার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে চুল নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ার দরকার নেই। অফিসের মধ্যেই কয়েকটি সহজ কৌশলে সাময়িকভাবে সামলে নিতে পারেন।
টিস্যু দিয়ে বাড়তি কন্ডিশনার শুষে নিন
প্রথমে ওয়াশরুমে গিয়ে শুকনো টিস্যু বা পেপার টাওয়াল দিয়ে চুলের অতিরিক্ত কন্ডিশনার আলতো চাপ দিয়ে শুষে নিন। বিশেষ করে চুলের যে অংশে বেশি আঠালো ভাব রয়েছে, সেখানে এই কৌশল কাজে লাগতে পারে। তবে চুল ঘষে ঘষে মুছবেন না। এতে চুল জট পাকানোর পাশাপাশি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
শুধু চুলের ডগা ধুয়ে নিন
পুরো মাথা ধোয়ার সুযোগ না থাকলে বেসিনে গিয়ে চুলের নিচের অংশ, বিশেষ করে যেখানে কন্ডিশনার বেশি লেগে আছে, সেটুকু পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর ফ্যান বা হ্যান্ড ড্রায়ারের ঠান্ডা বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন। খুব গরম বাতাস ব্যবহার না করাই ভালো।
ভরসা রাখতে পারেন ড্রাই শ্যাম্পুতে
চুলের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব সামলাতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়। অল্প পরিমাণে চুলের গোড়ায় দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর আলতো হাতে মিশিয়ে দিন। তবে ড্রাই শ্যাম্পু না থাকলে বেবি পাউডার বা মেকআপ পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে নিয়মিত বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার না করাই ভালো। মাথার ত্বকে কোনও পণ্য ব্যবহারের আগে সেটি চুল ও স্ক্যাল্পের জন্য উপযোগী কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
চুলের স্টাইল বদলে ফেলুন
খোলা চুলে আঠালো ভাব বেশি চোখে পড়তে পারে। তাই চুল আঁচড়ে পরিষ্কার-পরিপাটি হাই পনিটেল, বান বা বিনুনি করে নিতে পারেন। এতে চুল সামলানো সহজ হবে এবং অস্বস্তিও কিছুটা কমবে।
বাড়ি ফিরে ভালোভাবে ধুয়ে নিন
অফিসের ব্যস্ততা সামলাতে দিনের জন্য এই কৌশলগুলো কাজে লাগলেও এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। বাড়ি ফিরে চুল ও স্ক্যাল্প ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। প্রয়োজন হলে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনারের অবশিষ্টাংশ ধুয়ে ফেলুন।
তাই কন্ডিশনার ধুতে ভুলে গেলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত কিছুটা পরিষ্কার করে, চুলের স্টাইল বদলে নিলেই দিনের বাকি সময়টা বেশ স্বাভাবিকভাবেই কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব।