বর্ষা মানেই চুলের বাড়তি ঝামেলা। কখনও অতিরিক্ত রুক্ষতা, কখনও খুশকি, আবার কখনও চুল পড়ার সমস্যা। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুলের যত্নের ধরনও বদলাতে হয়। কিন্তু প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো চুলের জন্য উপকারী আর কোনগুলো ক্ষতিকর এ প্রশ্ন অনেকেরই।
তারকাদের কেশচর্চাশিল্পী অমিত ঠাকুর চুলের যত্নের কয়েকটি প্রচলিত অভ্যাসকে নম্বর দিয়ে বুঝিয়েছেন। আলিয়া ভাট থেকে ক্যাটরিনা কাইফ বহু তারকার চুলের সাজসজ্জার দায়িত্ব পালন করা এই কেশবিশেষজ্ঞের মতে, ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
ভেজা চুলে ঘুম? (নম্বর: ১০-এ ১)
গোসল শেষে ভেজা চুল নিয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অমিত ঠাকুরের মতে, এটি চুলের জন্য ভালো নয়। দীর্ঘ সময় ভেজা চুলে থাকলে মাথার ত্বকে আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যা অস্বস্তি ও নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্নানের পরপরই চুল আঁচড়ানো—একেবারেই নয় (নম্বর: ১০-এ ০)
অনেকে মনে করেন, ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল সহজে গুছিয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া তুলনামূলক দুর্বল থাকে। তাই এ সময় বেশি টান পড়লে চুল ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তেল মালিশে মিলতে পারে স্বস্তি (নম্বর: ১০-এ ৮)
চুলে তেল দেওয়ার অভ্যাস পুরোনো হলেও এর উপকারিতা নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। পরিষ্কার মাথার ত্বকে সঠিকভাবে তেল মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায় এবং মাথার ত্বকের যত্নেও এটি সহায়ক হতে পারে।
ডবল শ্যাম্পু কি ভালো? (নম্বর: ১০-এ ৯)
বর্ষায় ঘাম, ধুলা ও তেল জমে মাথার ত্বক ভারী হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দু’বার শ্যাম্পু করলে চুল ও মাথার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করেন অমিত ঠাকুর।
নিয়মিত ট্রিমিং (নম্বর: ১০-এ ১০)
চুলের ডগা নির্দিষ্ট সময় পর পর ছাঁটার অভ্যাসকে সবচেয়ে বেশি নম্বর দিয়েছেন কেশচর্চাশিল্পী। যদিও চুল দ্রুত বাড়ার সঙ্গে ট্রিমিংয়ের সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে এতে ডগা ফাটা কমানো এবং চুলকে পরিপাটি রাখতে সাহায্য করে।
চুলের যত্নে মনে রাখুন
চুল ভালো রাখতে শুধু দামি প্রসাধনী নয়, প্রয়োজন সঠিক অভ্যাস। ভেজা চুলে ঘুমানো এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত ট্রিম করা এবং নিজের চুলের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই হতে পারে সুন্দর কেশের চাবিকাঠি।
বর্ষায় এ ধরনের একটু বাড়তি যত্নেই চুল থাকতে পারে ঝলমলে ও প্রাণবন্ত।

চুল পড়ছে? কখন সতর্ক হবেন, কী করবেন







