বর্ষা মানেই শুধু ভেজা রাস্তা আর মেঘলা আকাশ নয়, ত্বকের জন্যও এই ঋতু বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম সহজে শুকাতে চায় না। তার সঙ্গে ধুলো-ময়লা মিশে শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে তৈরি হতে পারে অস্বস্তিকর পরিবেশ। ফলে দেখা দিতে পারে চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা সাদা-কালো ছোপ। ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি খাবার ও পানীয়ের দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা।
শিকাগোর বাঙালি পুষ্টিবিদ রেশমী রায়চৌধুরীর মতে, বর্ষায় অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে বিশেষ করে শরীরের ভাঁজে সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বগল, কুঁচকি বা শরীরের অন্যান্য ভাঁজে ঘাম জমে থাকার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এর ফলে ত্বকে অস্বস্তি ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, শরীর শুকনো রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় দু’ধরনের ঘরোয়া পানীয় রাখা যেতে পারে।
নিম দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশের লোকজ পরিচর্যায় ত্বকের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রেশমী রায়চৌধুরীর পরামর্শ অনুযায়ী, নিমপাতা দিয়ে সহজেই একটি পানীয় তৈরি করা যায়।
এর জন্য ৩-৪টি কচি নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে এক গ্লাস পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। তবে নিমের রস নিয়মিত খাওয়ার আগে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ বিবেচনা করা ভালো।
নিমে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে নিমের পানীয় খেলেই ছত্রাক সংক্রমণ বা ত্বকের দাগ সেরে যাবে এমন নিশ্চিত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ত্বকে সংক্রমণ হলে শুধু ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ত্বকের যত্নে আরেকটি ঘরোয়া পানীয় হতে পারে গাজর-টম্যাটোর স্মুদি। একটি ছোট গাজর, একটি টম্যাটো ও অল্প আদা কুচি একসঙ্গে নিয়ে এক গ্লাস পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন।
গাজরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, আর টম্যাটোতে পাওয়া যায় লাইকোপিন—দুটিই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এসব সবজি খেলে শরীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি পায়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থার জন্য উপকারী।
তবে এই স্মুদিকেও ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ত্বকে সাদা, লাল বা কালো দাগের পেছনে ছত্রাক ছাড়াও অ্যালার্জি, প্রদাহ, রঞ্জকের পরিবর্তনসহ নানা কারণ থাকতে পারে।
শরীরের ভাঁজে সাদা বা কালো ছোপ দেখা দিলে প্রথমে কারণটি বোঝা জরুরি। বিশেষ করে চুলকানি, জ্বালা, খসখসে ভাব, দুর্গন্ধ, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাগ কিংবা বারবার একই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষায় ত্বক ভালো রাখতে তাই শুধু কোনও বিশেষ পানীয়ের ওপর ভরসা না করে শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, ঘাম জমে থাকতে না দেওয়া, ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া এসব অভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন বিভিন্ন রকম শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার।