রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার ছয় বছর পর প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন। লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসস্থানে তারা উঠবেন এবং তাদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তারা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন না।
যুক্তরাজ্যে নতুন অধ্যায় শুরুর আগে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর সেই বিলাসবহুল বাড়ি, যেখানে ২০২০ সাল থেকে হ্যারি-মেগান তাদের সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। প্রায় ১৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা এই সম্পত্তির মূল্য অস্ট্রেলীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
স্বপ্নের বাড়ি, যেখানে মিলেছে শান্তি
২০২০ সালে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান হ্যারি ও মেগান। কিছুদিন পর তারা মন্টেসিটোর এই সম্পত্তিটি কিনে নিজেদের পারিবারিক আবাস গড়ে তোলেন। সাত একরের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা বাড়িটি শুরু থেকেই তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তানদের বেড়ে ওঠার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ দিয়েছে।
মেগানের ভাষায়, বাড়িটি তাদের কাছে শুধু একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং মানসিক প্রশান্তির জায়গা। ২০২২ সালে দ্য কাট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাড়িটিকে শান্ত ও নিরাময়কারী বলে বর্ণনা করেছিলেন। তার মতে, সেখানে প্রবেশ করলেই আনন্দ, স্বস্তি ও শান্তির অনুভূতি আসে এবং নিজেকে মুক্ত মনে হয়।
প্রথমে ভেতরেও ঢুকতে চাননি
মজার বিষয় হলো, বাড়িটি প্রথম দেখার সময় হ্যারি ও মেগানের মনে হয়েছিল এটি হয়তো তাদের সামর্থ্যের বাইরে। মেগান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তখন তাদের কোনও চাকরি ছিল না। তাই বাড়িটি দেখতে যাওয়াও তাদের কাছে সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না।
পরে সম্পত্তিটি দেখে দুজনই এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। মেগানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির চারপাশে হাঁটার সময় হ্যারি দুটি কাছাকাছি থাকা পামগাছ দেখে তাদের সম্পর্কের সঙ্গে মিল খুঁজে পান। শেষ পর্যন্ত তারা বাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এটিই হয়ে ওঠে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার পারিবারিক ঠিকানা।
সবুজে ঘেরা বিলাসবহুল ঠিকানা
মন্টেসিটোর বাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর বিস্তৃত সবুজ পরিবেশ। সম্পত্তিতে রয়েছে গোলাপের বাগান, বড় সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, চা-বাড়ি, অতিথিশালা এবং মুরগি পালনের ঘর। বাড়ির চারপাশের গাছপালা ও ব্যক্তিগত পরিসর এটিকে আরও নিরিবিলি করে তুলেছে।
বাড়ির ভেতরেও বিলাসিতার কমতি নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে লাইব্রেরি, অফিস, ব্যায়ামাগার, সনা, খেলার কক্ষ, আর্কেড, ওয়াইন সেলার এবং পাঁচ গাড়ির গ্যারেজের মতো সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
‘উইথ লাভ, মেগান’ কেন নিজের বাড়িতে নয়?
মেগানের নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘উইথ লাভ, মেগান’ প্রকাশের পর অনেকের ধারণা ছিল, এর বড় অংশ হয়তো হ্যারি-মেগানের নিজস্ব বাড়িতে ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মেগান তাদের ব্যক্তিগত বাসস্থানকে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত রাখতেই চেয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজটির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছিল মন্টেসিটোর কাছাকাছি অন্য একটি সম্পত্তিতে। মেগানের নিজের বাড়িতে কেবল কিছু নির্বাচিত দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল।
মেগান ব্যাখ্যা করেছিলেন, তারা ঘনিষ্ঠ পরিবার এবং সন্তানদের ঘুম পাড়ানো, একসঙ্গে খাবার খাওয়া কিংবা দিনের শেষে পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোকে তিনি ব্যক্তিগত রাখতে চান। তার বাড়ির রান্নাঘরও মূলত পরিবারের জন্য—৮০ জনের বেশি সদস্যের শুটিং দলের জন্য নয়।
সন্তানদের জন্যও বড় পরিসর
হ্যারি-মেগানের মন্টেসিটো বাড়িটি শুধু বিলাসিতার জন্য নয়, সন্তানদের বেড়ে ওঠার জন্যও যথেষ্ট জায়গা ও সুবিধা দেয়। বিশাল বাগান, সুইমিংপুল, খেলার জায়গা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা শিশুদের জন্য বাড়িটিকে অনেকটাই নিজস্ব জগতে পরিণত করেছে।
মেগান ও হ্যারি নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করলেও সময়ে সময়ে বাড়িটির কিছু অংশ বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে। তবু সম্পত্তিটির বড় অংশই এখনও ব্যক্তিগত পরিসর হিসেবে রয়ে গেছে।
এবার নতুন ঠিকানা যুক্তরাজ্যে
মন্টেসিটোর এই বাড়ি ছেড়ে যুক্তরাজ্যে নতুন জীবন শুরু করার খবর তাই শুধু ঠিকানা পরিবর্তনের গল্প নয়। ২০২০ সালে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের জীবন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর ছয় বছর ক্যালিফোর্নিয়াই ছিল হ্যারি-মেগানের পারিবারিক জীবনের কেন্দ্র। এখন সন্তানদের স্কুল ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
তবে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরা মানেই রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন নয়। বর্তমান প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তারা ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই দেশে ফিরছেন এবং রাজকীয় দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণের পরিকল্পনা নেই।
একদিকে নতুন ব্রিটিশ ঠিকানা, অন্যদিকে মন্টেসিটোর স্মৃতিবহুল বাড়ি—হ্যারি ও মেগানের জীবনে যেন আবারও বদলের হাওয়া। তবে যে বাড়িটিকে মেগান একসময় শান্তি, স্বস্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, সেটি তাদের ক্যালিফোর্নিয়া অধ্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি