সম্পর্কে সঙ্গী কেন মানসিক টান অনুভব করছেন না বা দূরত্ব বজায় রাখছেন, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তবে অন্যের মধ্যে এই ইমোশনালি আনঅ্যাভেইলেবল বা আবেগীয় অনুপস্থিতির লক্ষণ খুঁজতে গিয়ে অনেকেই নিজের ভেতরের একই আচরণ এড়িয়ে যান। প্রেম বা সম্পর্ক চাওয়ার ইচ্ছা আর তা বাস্তবে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতার মধ্যে যে বেশ বড় পার্থক্য রয়েছে, তা অনেকে প্রায়ই ভুলে যান।
বিশেষজ্ঞ ও মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, আবেগীয় অনুপস্থিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে কেউ হৃদয়হীন বা খারাপ মানুষ; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতীতের কোনও আঘাত বা তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে মানুষ অবচেতনভাবেই এই মানসিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।
মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, নিজের মধ্যে এই প্রবণতা রয়েছে কি না তা বোঝার জন্য বেশ কিছু সংকেত বা লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, সঙ্গী সাড়া দিলেই অনেকের আকর্ষণ কমে যায়। অনিশ্চিত সম্পর্কে আগ্রহ থাকলেও সঙ্গী স্পষ্ট যোগাযোগ শুরু করলে বা সম্পর্কে অনুগত হলে হঠাৎ বিরক্ত লাগা কিংবা দূরত্ব তৈরির অজুহাত খোঁজা শুরু হয়।
দ্বিতীয়ত, সবার মধ্যেই খুঁত খুঁজে পাওয়া। কোনও কারণ ছাড়াই বা ছোটখাটো আচরণে অতিমাত্রায় বিরক্ত হয়ে অপর ব্যক্তিকে অযোগ্য মনে হতে থাকে। নিজেকে বাছাইপ্রবণ মনে হলেও এটি মূলত কাছে আসার ভয় থেকে তৈরি হওয়া একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তৃতীয়ত, অনুপস্থিত বা জটিল সঙ্গীকে বেছে নেওয়া। বারবার এমন কাউকে সঙ্গীরূপে বেছে নেওয়া হয়, যিনি মানসিকভাবে বা সামাজিকভাবে সম্পর্কে জড়াতে অপারগ। এতে করে বাস্তবে অনুভূতির গভীরতায় যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
চতুর্থত, অতিরিক্ত স্বাবলম্বিতা ও ব্যস্ততা। কোনও ধরনের সাহায্য নিতে বা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চরম অস্বস্তি বোধ করা এবং অতিরিক্ত ব্যস্ততার বাহানায় সম্পর্ক গভীর হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া।
পঞ্চমত, অনুভূতির বদলে শুধু তথ্য শেয়ার করা। নিজের ব্যক্তিগত জীবন বা অতীতের তথ্য শেয়ার করলেও নিজের ভয়, আঘাত কিংবা বর্তমান অনুভূতি প্রকাশে অনিচ্ছা দেখানো বা জটিল ব্যাখ্যা দেওয়া।
ষষ্ঠত, সঙ্গীর অনুভূতি গ্রহণে অক্ষমতা। সঙ্গীর রাগ, দুঃখ বা কঠিন আবেগগুলোর মুখোমুখি হতে না পেরে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া বা নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনও স্থায়ী ভালোবাসতে না পারার প্রমাণ নয়। এটি কেবল অতীতের পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচানোর একটি পুরোনো কৌশল। যদি বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে নিজের আচরণের কারণগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সম্পর্কের যেকোনও জটিল মুহূর্তে পুরোপুরি দূর না হয়ে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়ে পরবর্তীতে কথা বলা, নিজের অনুভূতির বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে এই মানসিক বাধা কাটিয়ে উঠে সুস্থ ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
সূত্র: কসমোপলিটন









