বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সৌন্দর্য ও সাজসজ্জা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে তার মেকআপ ও স্টাইল যেমন জনপ্রিয় হয়েছিল, তেমনি সময়ের সঙ্গে তার সৌন্দর্যবোধেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সৌন্দর্যচর্চার অনুপ্রেরণা হিসেবে দাদি ও নানির কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, ছোটবেলায় তিনি তাঁর দাদি ও নানিকে দেখেই বড় হয়েছেন। দুজনেরই সুন্দর ত্বক ছিল এবং তার কাছে তারাই ছিলেন সৌন্দর্যের আদর্শ। তবে ত্বকের যত্নে তারা খুব বেশি কিছু করতেন না। বরং পুরোনো দিনের ঘরোয়া উপায় বা ‘নুসখা’র ওপরই তাঁদের আস্থা ছিল।
দাদির সৌন্দর্যচর্চায় ঘি
দাদির কাছ থেকে পাওয়া একটি সৌন্দর্যচর্চার অভ্যাসের কথা বলতে গিয়ে কারিশমা জানান, তার দাদি ঘি খেতেন এবং মুখেও ঘি মাখতেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় উজ্জ্বল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতেন। কারিশমার মতে, দাদির এই অভ্যাসের প্রভাব তাঁর নিজের সৌন্দর্যবোধেও এসেছে।
নানির সাজেও ছিল সরলতা
নানির সাজপোশাকের কথাও স্মরণ করেন কারিশমা। তার মতে, নানি খুব সুন্দরভাবে সাজতেন। সুন্দর শিফন শাড়ির সঙ্গে থাকত শুধু একসারি মুক্তা ও হালকা রঙের লিপস্টিক। জাঁকজমকের বদলে সরলতার মধ্যেই ছিল তার সৌন্দর্য।
কারিশমা বলেন, দাদি ও নানির স্টাইল একে অপরের চেয়ে আলাদা হলেও দুজনের মধ্যেই ছিল এক ধরনের সরলতা। ছোটবেলা থেকেই এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তার নিজের সৌন্দর্যবোধেও সেই সরলতার প্রভাব পড়েছে।
নব্বইয়ের দশকের মেকআপ আবারও পছন্দ
কারিশমা তার অভিনীত ‘আনারি’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ও ‘বিবি নম্বর ওয়ান’-এর সময়কার মেকআপ ও স্টাইলিংয়ের কথাও স্মরণ করেন। তার মতে, নব্বইয়ের দশকে সিনেমার মেকআপ ও সৌন্দর্যচর্চার একটি নির্দিষ্ট ধারা ছিল। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি, আলো, পোশাক ও সেট ডিজাইনের মতো মেকআপেও পরিবর্তন এসেছে।
তবে নব্বইয়ের দশকের ট্রেন্ড এখনও তার পছন্দের। বিশেষ করে সেই সময়ের ব্রোঞ্জার ও বাদামি রঙের লিপস্টিকের প্রতি তার আলাদা টান রয়েছে। বর্তমানে তিনি আবারও বাদামি রঙের বিভিন্ন শেডের লিপস্টিক ব্যবহারে ফিরেছেন বলে জানান।
কারিশমার এই অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যের ধারণা শুধু সময়ের সঙ্গে বদলায় না, পরিবার ও শৈশবের অভিজ্ঞতাও ব্যক্তিগত সৌন্দর্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।