সস্তা ফ্লাইট দিবস আজ

গ্রীষ্মের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শেষ হয়ে শুরু হয় তুলনামূলক শান্ত শরৎ। পর্যটকের ভিড় কমে, অনেক গন্তব্যে আবহাওয়া হয়ে ওঠে আরামদায়ক, আর বিভিন্ন ভ্রমণসেবায় মিলতে পারে বিশেষ ছাড়। এই সময়টিকেই ঘিরে গত কয়েক বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে ‘সস্তা ফ্লাইট দিবস’। কম খরচে বিমানভ্রমণের সুযোগ খুঁজতে থাকা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য দিনটি তাই হয়ে উঠেছে বেশ আকর্ষণীয়।

তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে টিকিট কিনলেই সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং আগেভাগে ভাড়া যাচাই, বিভিন্ন এয়ারলাইন ও রুটের দাম তুলনা এবং সঠিক সময়ের অপেক্ষাই হতে পারে সাশ্রয়ী ভ্রমণের চাবিকাঠি।

সস্তা ফ্লাইট দিবসের শুরু

সস্তা ফ্লাইট দিবসের প্রচলন শুরু হয় বলে ধারণা করা হয় ২০১৫ সালের দিকে। মূল লক্ষ্য ছিল কম দামে বিমান টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে আনা। গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুম শেষ হয়ে স্কুল-কলেজ খুলে গেলে অনেক রুটে ভ্রমণের চাহিদা কমতে শুরু করে। চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বিমানভাড়াও কমে আসে এই ধারণার ওপরই মূলত দিনটির জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।

অবশ্য এই দিনে টিকিটের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়। আগের বছরগুলোর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কখনও কখনও এই সময়ে কেনা টিকিট কয়েক সপ্তাহ আগে কেনা টিকিটের তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হতে পারে।

তবে ভ্রমণশিল্পের পরিস্থিতি প্রতিবছর বদলায়। বিশেষ করে মহামারির পর বিমান চলাচল, জ্বালানি খরচ, পর্যটকের চাহিদা ও বিভিন্ন রুটের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে সস্তা ফ্লাইট দিবসকে সম্ভাব্য ভালো ভাড়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে বছরের সবচেয়ে সস্তা টিকিট কেনার নিশ্চিত দিন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সস্তা টিকিটের সন্ধানে

কম দামে বিমানের টিকিট পেতে প্রথম কাজ হতে পারে নিয়মিত ভাড়ার দিকে নজর রাখা। পছন্দের গন্তব্যের টিকিট সাধারণত কত দামে পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিশেষ ছাড়ের সময়টি সহজেই বোঝা যায়।

পছন্দের এয়ারলাইনসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ভাড়া দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার বা যাত্রী আনুগত্য কর্মসূচির সদস্য হলে বাড়তি সুবিধাও মিলতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাড়া তুলনাকারী ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একই রুটে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের দাম যাচাই করা যেতে পারে।

ভাড়া কমলেই মিলবে সতর্কবার্তা

ভ্রমণ পরিকল্পনাকে আরও সহজ করতে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কম ভাড়ার সতর্কবার্তা চালু করা যায়। নির্দিষ্ট কোনও রুটের বিমানভাড়া কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেমে এলে এসব সেবা ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয়।

গুগল ফ্লাইটস, কায়াক ও স্কাইস্ক্যানারের মতো প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের সুবিধা রয়েছে। বিমানভাড়ার বিশেষ অফারভিত্তিক নিউজলেটারও নিয়মিত অনুসরণ করা যেতে পারে।

তবে আকর্ষণীয় কোনও ভাড়া চোখে পড়লে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি না করাই ভালো। কারণ বিশেষ ছাড় অনেক সময় অল্প সময়ের জন্য থাকে।

বিমানভ্রমণে খরচ কমানোর কৌশল

সস্তা টিকিট পাওয়া গেলেও ভ্রমণের মোট খরচ কমাতে আরও কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।

কম লাগেজ, কম খরচ

সম্ভব হলে শুধু কেবিন লাগেজ নিয়েই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত লাগেজের খরচ এড়ানো সম্ভব। কয়েক দিনের ভ্রমণে প্রয়োজনীয় পোশাক বেছে নিয়ে নেওয়া এবং সুযোগ থাকলে থাকার জায়গায় কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করাও কাজে আসতে পারে।

অনলাইনে চেক-ইন

বেশির ভাগ এয়ারলাইনসে এখন অনলাইনে চেক-ইনের সুবিধা রয়েছে। অনেক বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় লাগেজ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। আগে থেকেই চেক-ইন করে রাখলে বিমানবন্দরে সময় বাঁচে এবং যাত্রার ঝামেলাও কমে।

নিরাপত্তা তল্লাশির প্রস্তুতি

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়ম আগে থেকেই জেনে রাখা উচিত। তরল পদার্থের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা মেনে চলুন, প্রয়োজন হলে ব্যাগ থেকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বের করে রাখুন এবং সহজে খোলা যায় এমন জুতা পরুন। এতে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কম লাগতে পারে।

শুধু বিমানভাড়া নয়, পুরো ভ্রমণের হিসাব

গ্রীষ্মের ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার পর শুধু বিমানভাড়াই নয়, অনেক সময় হোটেল, ভাড়ার গাড়ি ও অন্যান্য ভ্রমণসেবাতেও তুলনামূলক কম দাম পাওয়া যেতে পারে। ফলে শুধু টিকিটের দাম নয়, পুরো ভ্রমণের বাজেট হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

যাদের স্কুলপড়ুয়া সন্তান নিয়ে ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা নেই, তারা এই সময়ের কম ভিড় ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার সুবিধা নিতে পারেন।

বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনার আড্ডা

ভ্রমণের পরিকল্পনাও হতে পারে আনন্দের অংশ। বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ছোট ভ্রমণ পরিকল্পনার আড্ডা আয়োজন করা যেতে পারে। যে দেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন, সেই দেশের খাবার দিয়ে আড্ডাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।

ফ্রান্সের জন্য চিজ ও অন্যান্য খাবার, মেক্সিকোর জন্য গুয়াকামোলে ও চিপস, কিংবা জাপানের জন্য সুশি গন্তব্য অনুযায়ী খাবারের আয়োজন হতে পারে পরিকল্পনারই অংশ।

এরপর সবাই মিলে গন্তব্য নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ, থাকার জায়গা খোঁজা এবং বিমানভাড়া যাচাই করতে পারেন। ভ্রমণের বিভিন্ন দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া যায়। এতে শুধু খরচের পরিকল্পনাই সহজ হবে না, যাত্রার আগেই তৈরি হবে ভ্রমণের আনন্দ।

সাশ্রয়ী ভ্রমণ মানে শুধু কম দামে টিকিট কেনা নয়। কম খরচে, কম ঝামেলায় এবং দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করাই হতে পারে সাশ্রয়ী ভ্রমণের আসল লক্ষ্য।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, ‘সস্তা ফ্লাইট দিবস’ কোনও জাদুকরী ছাড়ের দিন নয়। বরং এটি বিমানভাড়া যাচাই, আগাম পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ভালো অফার খোঁজার একটি উপলক্ষ। তাই নির্দিষ্ট একটি দিনের অপেক্ষায় না থেকে সারা বছর ভাড়ার গতিবিধির ওপর নজর রাখুন।