এয়ার ফ্রায়ারে ভুলেও দেবেন না এই ৪ খাবার, নষ্ট হতে পারে যন্ত্রও

রান্নাঘরের কাজ সহজ করতে এয়ার ফ্রায়ারের জনপ্রিয়তা এখন অনেকটাই বেড়েছে। অল্প তেলে আলুভাজা থেকে শুরু করে চিকেন, মাছ কিংবা বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস অনেক কিছুই এতে তৈরি করা যায়। তেলের ব্যবহার কম হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছেও এই যন্ত্র বেশ জনপ্রিয়।

তবে এয়ার ফ্রায়ার আসলে সব ধরনের রান্নার জন্য উপযুক্ত নয়। এর কাজ মূলত গরম বাতাস দ্রুত ঘুরিয়ে খাবার রান্না বা ক্রিসপি করা। ফলে যেসব খাবারে বেশি তরল লাগে, পাতলা ব্যাটার থাকে কিংবা রান্নার জন্য পানিতে সেদ্ধ করার প্রয়োজন হয়, সেগুলো এতে তৈরি করতে গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। উল্টো যন্ত্র নোংরা হওয়া থেকে শুরু করে রান্নার সময় সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

তাই এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করার আগে কোন খাবার এতে দেওয়া ঠিক নয়, তা জানা দরকার।

পপকর্ন: সিনেমা দেখতে দেখতে পপকর্ন খেতে ভালোবাসেন? তাহলে এয়ার ফ্রায়ারে তা বানানোর চেষ্টা না করাই ভালো। পপকর্নের দানাগুলো সমানভাবে গরম না হলে অনেক দানাই ঠিকমতো ফুটবে না। কিছু দানা আবার অতিরিক্ত গরম হয়ে পুড়ে যেতে পারে।

শুধু তা-ই নয়, ছোট ছোট পপকর্নের দানা বা খোসা এয়ার ফ্রায়ারের বিভিন্ন অংশে আটকে যেতে পারে। ফলে রান্নার পর যন্ত্র পরিষ্কার করতেও বাড়তি ঝামেলা হতে পারে।

ঝোল বা গ্রেভি জাতীয় খাবা: এয়ার ফ্রায়ারে মূলত শুকনো ধরনের খাবার রান্না করাই সুবিধাজনক। তাই ডাল, ঝোল, তরকারির গ্রেভি কিংবা সস-সমৃদ্ধ কোনও পদ এতে রান্না করার চেষ্টা করা ঠিক নয়।

কারণ এয়ার ফ্রায়ারের গরম বাতাস খাবারের চারপাশে দ্রুত ঘোরে। পাত্রে থাকা তরল গরম হয়ে ছিটকে যেতে পারে বা উপচে পড়তে পারে। এতে খাবার ঠিকমতো রান্না হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রের ভেতরটিও নোংরা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রেভি বা ঝোলের রান্নার জন্য সাধারণ পাত্রই বেশি উপযোগী।

পাতলা ব্যাটারে ডোবানো খাবার: বেগুনি, পেঁয়াজি কিংবা কিছু ধরনের চপ তৈরির সময় খাবারকে পাতলা বেসনের ব্যাটারে ডুবিয়ে নিতে হয়। এই ধরনের খাবার এয়ার ফ্রায়ারে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ব্যাটারটি গরম হওয়ার আগেই খাবার থেকে ঝরে নিচে পড়ে যেতে পারে। ফলে খাবারের বাইরের আবরণটি তেমন মুচমুচে না-ও হতে পারে। পাশাপাশি এয়ার ফ্রায়ারের নিচের অংশে ব্যাটার লেগে গিয়ে পরিষ্কার করার ঝামেলাও বাড়বে।

তাই পাতলা তরল ব্যাটারে মোড়ানো খাবারের ক্ষেত্রে এয়ার ফ্রায়ারের বদলে প্রচলিত রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়াই সুবিধাজনক।

ভাত, পোলাও বা বিরিয়ানি: ভাত রান্নার জন্য চালের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে সেদ্ধ করার প্রয়োজন হয়। একইভাবে পোলাও বা বিরিয়ানির ক্ষেত্রেও চালকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তরলে রান্না করতে হয়। এয়ার ফ্রায়ারের মূল কার্যপ্রণালি সেই ধরনের রান্নার জন্য তৈরি নয়।

ফলে সরাসরি এয়ার ফ্রায়ারে চাল ও পানি দিয়ে ভাত বা পোলাও রান্না করতে গেলে চাল সমানভাবে সেদ্ধ নাও হতে পারে। কোথাও কাঁচা থেকে যেতে পারে, আবার কোথাও অতিরিক্ত তাপে শুকিয়ে বা পুড়ে যেতে পারে।

এয়ার ফ্রায়ার নিঃসন্দেহে রান্নাঘরের কাজে সুবিধা বাড়িয়েছে। তবে যন্ত্রটির সুবিধা পেতে হলে তার ব্যবহারবিধিও জানা জরুরি। কম তেলে রান্না করা যায় বলেই সব পদ এয়ার ফ্রায়ারে দেওয়া ঠিক নয়। কোন খাবার গরম বাতাসে ভালোভাবে রান্না হবে আর কোনটির জন্য পানি, তেল বা অন্য রান্নার পদ্ধতি প্রয়োজন এই পার্থক্যটুকু মাথায় রাখলেই যন্ত্রটি নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।