রোজকার মুরগির মাংসের একই ধরনের রান্না খেতে খেতে একঘেয়ে লাগতেই পারে। স্বাদে একটু বদল আনতে চাইলে তৈরি করতে পারেন রেলওয়ে চিকেন কারি। ঘন লাল ঝোল, মশলার সুবাস এবং নরম মাংসের এই পদ ভাতের সঙ্গে জমে যাবে। রেসিপিটি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কাপুর।
রেলওয়ে চিকেন কারির বিশেষত্ব এর ঝোল ও মশলার ভারসাম্যে। খুব পাতলা নয়, আবার অতিরিক্ত ঘনও নয়, টমেটোর ক্বাথ ও নানা মশলার মিশেলে তৈরি হয় এর স্বাদ। সঙ্গে আলু থাকায় পদটি আরও জমে ওঠে।
যা লাগবে
৭৫০ গ্রাম মুরগির মাংসের সঙ্গে লাগবে আধ কাপ টকদই, দেড় টেবিলচামচ আদা-রসুনবাটা, দেড় টেবিলচামচ মরিচগুঁড়ো, আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো এবং স্বাদমতো নুন। রান্নার জন্য লাগবে ৬ টেবিলচামচ সর্ষের তেল।
মশলার জন্য রাখুন ২ টেবিলচামচ মৌরি, দেড় টেবিলচামচ জিরে, ১ ইঞ্চি দারচিনি, ২টি শুকনো মরিচ, ৫-৬টি গোলমরিচ, ৫-৬টি ছোট এলাচ, ৮-১০টি লবঙ্গ, ৫-৬টি রসুনের কোয়া ও ১ ইঞ্চি আদা। এর সঙ্গে লাগবে ২ টেবিলচামচ ধনেগুঁড়ো, দেড় কাপ টমেটোর ক্বাথ, ৩টি ডুমো করে কাটা আলু, এক-চতুর্থাংশ চা-চামচ জায়ফলগুঁড়ো এবং একমুঠো ধনেপাতা কুচি।
যেভাবে রান্না করবেন
প্রথমে মুরগির মাংসের সঙ্গে টকদই, আদা-রসুনবাটা, হলুদগুঁড়ো, মরিচগুঁড়ো ও লবণ ভালোভাবে মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
এরপর একটি কড়াইয়ে গোলমরিচ, জিরে, মৌরি, শুকনো মরিচ, দারচিনি, এলাচ ও লবঙ্গসহ গোটা মশলাগুলো হালকা ভেজে নিন। এর সঙ্গে রসুন ও আদা দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে গুঁড়ো করে নিন।
এবার কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে তেজপাতা ফোড়ন দিন। মিহি করে কুচোনো পেঁয়াজ দিয়ে নরম ও হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। প্রয়োজনমতো নুন দিয়ে তৈরি করা মশলার মিশ্রণটি ঢেলে দিন। ধনেগুঁড়ো ও মরিচগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে কষাতে থাকুন।
মশলা থেকে তেল বেরিয়ে এলে টম্যাটোর ক্বাথ দিয়ে আবার কষান। এরপর দই ও মশলা মাখানো মুরগির মাংস এবং ডুমো করে কাটা আলু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
কিছুক্ষণ কষানোর পর আঁচ কমিয়ে কড়াই ঢেকে দিন। মাংস থেকে বের হওয়া পানিতেই কিছুটা রান্না হতে দিন। মাংস আধসেদ্ধ হলে প্রয়োজনমতো গরম পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।
মাংস ও আলু ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে গেলে জায়ফলগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। শেষে ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুগন্ধি ও ঝাল-মশলাদার রেলওয়ে চিকেন কারি।