বয়স বাড়া, চেহারা ও প্রসাধনী চিকিৎসা নিয়ে হেমা মালিনীর ভাবনা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে নিজেকে পরিপাটি ও সুন্দর রাখতে প্রসাধনী চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া নিয়ে আপত্তি নেই বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনীর। তাঁর মতে, প্রয়োজন হলে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। তবে কোথায় থামতে হবে, সেটাও জানা জরুরি।

হেমা মালিনীর মতে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত জনসমক্ষে থাকেন, তাদের নিজের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও মেনে নেওয়া উচিত।

তিনি মুম্বাই মিররকে বলেন, “সুন্দরভাবে বয়স বাড়াকে মেনে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজেকে ঠিকঠাক রাখতে হয়। চেহারার জন্য সত্যিই যদি কোনও কিছুর প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই তা চেষ্টা করা যেতে পারে। যত দিন আপনি জনসমক্ষে থাকবেন, তত দিন নিজেকে পরিপাটি ও উপস্থাপনযোগ্য রাখতে হবে ব্যস, এটুকুই। তবে কোনও কিছুই বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।”

পোশাকে থাকুক মর্যাদা

শুধু রূপচর্চা নয়, নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন হেমা। তাঁর মতে, সাধারণ পোশাকেও মার্জিত ও মর্যাদাপূর্ণ থাকা যায়।

তিনি বলেন, “সাধারণ পোশাক পরলেও তা মর্যাদাপূর্ণভাবে পরা উচিত। নারীদের সুন্দরভাবে পোশাক পরা উচিত। খুব বেশি শরীর দেখানোর প্রয়োজন নেই। আজকাল তরুণীরা অনেক বেশি শরীর প্রদর্শন করে। একজন নারী ও মা হিসেবে এটা আমার ভালো লাগে না। বিষয়টি আমাকে সত্যিই কষ্ট দেয়।”

তারকাদের ব্যক্তিগত পরিসর কোথায়?

বর্তমান সময়ে তারকাদের প্রতি অতিরিক্ত নজরদারি নিয়েও কথা বলেছেন হেমা মালিনী। তাঁর মতে, তাঁর সময়ের তুলনায় এখন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত পরিসর অনেকটাই কমে গেছে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা যেন তাঁদের পিছু ছাড়ে না।

অভিনেত্রী বলেন, “এখন অতিরিক্ত প্রচার ও ছবি তোলার প্রবণতা রয়েছে। আমাদের সময়ে এভাবে ছবি তোলা হতো না। এখন বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেও একজন অভিনেতাকে ভাবতে হয় কী পোশাক পরবেন, কোন ব্যাগ নেবেন, কীভাবে হাঁটবেন। কারণ চারদিক থেকে কেউ না কেউ ছবি তুলছে। বিমানবন্দরে গেলেই মানুষ মোবাইল ফোনে সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে ফেলে। আপনি ঠিকমতো পোশাক না পরলেও কেউ তা নিয়ে ভাবে না। ছবিটা মুহূর্তেই সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।”

দ্রুত খ্যাতির দৌড়

হেমা মালিনীর মতে, তারকাদের প্রতি এই বাড়তি নজরদারি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও বাড়িয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই প্রচারের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হতে চান বলে মনে করেন তিনি।

হেমা বলেন, “আজকের তরুণরা দ্রুত খ্যাতি পেতে চায়। প্রচারের জন্য তারা যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আমাদের সময়ে এসব কিছু করতে হতো না। আমরা একটি ছবিতে ৬০ বা ৭০ দিন কাজ করতাম, তারপর পর্দায় ছবির ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম। আমি সব সময় জানতাম, নিজের সেরাটা দিয়েছি। ছবি হিট হলো কি না, সেটা ছিল আলাদা বিষয়।”

অভিনয়ের বাইরেও আলাদা পরিচয়

হেমা মালিনীর কাছে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার বিষয়টি কখনোই শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তিনি শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনও নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি।

হেমা মালিনী বলেন, “মানুষ বলে, তারা আমাকে ভুলে যায়নি। এর কারণ, আমি কখনও থেমে থাকিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি আমি শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চাও চালিয়ে গিয়েছি। এরপর সংসদ সদস্য হয়েছি এবং নিয়মিত নিজের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করছি। সব সময়ই মানুষের মধ্যে থাকি, কোনও না কোনও কাজে যুক্ত থাকি। তাই মানুষ আমাকে শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবেই মনে রাখেনি। নৃত্যচর্চা আমার আরেকটি পরিচয় হয়ে উঠেছে, আর জনসেবার কাজ হয়ে উঠেছে আরেকটি দায়িত্ব।”