গরমের দিনে বাইরে বের হলেই ত্বকের ওপর পড়ে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি বা ইউভি রশ্মির প্রভাব। এর ফলে ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া, রোদে পোড়া, শুষ্কতা বা অস্বস্তি এসবকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শ ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
তাই শুধু সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য নয়, ত্বকের সুস্থতার জন্যও নিয়মিত সূর্যসুরক্ষা জরুরি।
দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক রং কিছুটা গাঢ় হয়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মুখ, হাত, ঘাড়সহ খোলা অংশে এই পরিবর্তন বেশি চোখে পড়ে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বক লাল, গরম, স্পর্শে ব্যথাযুক্ত বা ফুলে যেতে পারে। এগুলো সানবার্নের লক্ষণ। গুরুতর হলে ফোসকাও পড়তে পারে।
সানবার্নের উপসর্গ অনেক সময় রোদে থাকার সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। সাধারণত কয়েক ঘণ্টা পর শুরু হয়ে পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় বাড়তে পারে।
রোদে পোড়ার পর ফোসকা তৈরি হলে সেটি খুঁটিয়ে বা ফাটিয়ে ফেলা উচিত নয়। ফোসকার ওপরের ত্বক ক্ষতস্থানকে সুরক্ষা দেয় এবং ফাটিয়ে ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিষ্কার রেখে হালকা ব্যান্ডেজ বা উপযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
রোদ থেকে ত্বক বাঁচানোর জন্য কিছু উপায় অবল্মবন করা যেতে পারে। যেমন-
১. সানস্ক্রিনকে প্রতিদিনের অভ্যাস করুন: বাইরে বের হওয়ার আগে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন, অর্থাৎ ইউভিএ ও ইউভিবি দুই ধরনের রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বাইরে থাকার ক্ষেত্রে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম, পানি-প্রতিরোধী সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
ঘাম হলে, পানিতে গেলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সানস্ক্রিন আবার লাগাতে হবে। সাধারণভাবে বাইরে থাকলে অন্তত প্রতি দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
২. শুধু সানস্ক্রিনের ওপর নির্ভর করবেন না: রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ছায়ায় থাকুন, মুখ ও ঘাড় ঢেকে রাখে এমন চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করুন এবং ইউভি রশ্মি প্রতিরোধ করে এমন সানগ্লাস পরুন। লম্বা হাতার পোশাকও ত্বককে সরাসরি সূর্যালোক থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে দিনের মাঝামাঝি সময়ে ইউভি রশ্মির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে এই সময়ে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে না থাকাই ভালো।
৩. রোদে পুড়ে গেলে ত্বককে সময় দিন: সানবার্ন হলে প্রথম কাজ হলো রোদ থেকে সরে যাওয়া। এরপর ঠান্ডা বা শীতল পানিতে গোসল করা কিংবা ঠান্ডা ভেজা কাপড় আক্রান্ত স্থানে আলতো করে রাখা যেতে পারে। অ্যালোভেরা বা ময়েশ্চারাইজারযুক্ত পণ্য ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সানবার্নের সময় শরীরের তরলের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে, তাই পানিশূন্যতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক সামান্য লাল বা গরম হওয়া সাধারণ সানবার্নের লক্ষণ হতে পারে। তবে শরীরের বড় অংশে গুরুতর সানবার্ন, প্রচুর ফোসকা, পানিশূন্যতা, উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড ব্যথা বা ফোসকায় সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ত্বকে নতুন কোনও অস্বাভাবিক দাগ, গুটি বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলেও নিজে থেকে ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
রোদে পোড়া বা ট্যানকে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন, ছায়া, সুরক্ষিত পোশাক, টুপি ও সানগ্লাস ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরি করুন প্রতিদিনের সূর্যসুরক্ষা রুটিন।









