সরিষার ঝাঁঝে লেবুপাতার সুবাসে রুই মাছ

গরম ভাতের সঙ্গে একটু অন্যরকম স্বাদের মাছের পদ খেতে চাইলে এই রেসিপিটি একবার অবশ্যই ট্রাই করে দেখতে পারেন। সরিষার ঝাঁঝ, বাদামের স্বাদ, কাঁচা মরিচের হালকা ঝাল আর লেবুপাতার মনমাতানো সুবাসে রুই মাছের এই রান্নাটি হয়ে উঠবে একেবারেই ব্যতিক্রমী। সাধারণ উপকরণেই তৈরি করা যায় এমন এই পদটি দুপুরের ভাতের আয়োজনকে করে তুলবে আরও জমজমাট।

রান্নার শুরুতে কালো সরিষা ও সাদা সরিষা ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও কয়েকটি কাঁচা মরিচের সঙ্গে মিহি করে বেটে নিন। এরপর রুই মাছের টুকরোগুলো একটি পাত্রে নিয়ে তাতে তৈরি করা সরিষা-বাদামের পেস্ট, লাল মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, ধনিয়ার গুঁড়া, জিরার গুঁড়া ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এর সঙ্গে সামান্য সরিষার তেল ও লেবুর রস দিয়ে মাছগুলো কিছুক্ষণ মেরিনেট করে রাখুন।

এবার চুলায় প্যান বসিয়ে পরিমাণমতো সরিষার তেল গরম করে একটু বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি করে ভেজে নিন। মেরিনেট করা মাছগুলো তুলে রেখে অবশিষ্ট মসলাটি ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে মেরিনেট করা মাছগুলো প্যানে দিয়ে দিন। অল্প পানি দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে মাছগুলো কিছুক্ষণ রান্না হতে দিন, যাতে মসলার স্বাদ ভালোভাবে মাছের মধ্যে ঢুকে যায়।

মাছ ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে ১ থেকে দেড় কাপ পানি ও কয়েকটি আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে আবার ঢেকে রান্না করুন। ঝোল কিছুটা ঘন হয়ে এলে ১ চা চামচ জিরার গুঁড়া ও ১ চা চামচ চিনি দিয়ে আলতো করে মিশিয়ে দিন। এরপর আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন, যতক্ষণ না ঝোল ঘন হয়ে মাখামাখা হয় এবং ওপর থেকে সরিষার তেল ভেসে ওঠে।

সবশেষে কয়েকটি তাজা লেবুপাতা দিয়ে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে প্যানটি ঢেকে কয়েক মিনিট দমে রাখুন। এতে লেবুপাতার চমৎকার সুবাস পুরো রান্নায় ছড়িয়ে পড়বে এবং মাছের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেবে। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে চুলা বন্ধ করে নামিয়ে নিন।

তৈরি হয়ে গেল সরিষার ঝাঁঝ, বাদামের মোলায়েম স্বাদ আর লেবুপাতার মনমাতানো সুবাসে ভরপুর দারুণ স্বাদের রুই মাছ। গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন—সাধারণ রুই মাছের রান্নার চেয়ে এই ভিন্ন স্বাদ নিঃসন্দেহে সবার মন জয় করবে।