সোনমের সাদা সাজে পুরোনো দিনের রাজকীয় গ্ল্যামার

পুরোনো দিনের রাজকীয় আভিজাত্য আর আধুনিক ফ্যাশনের পরিশীলিত ছোঁয়া দুইয়ের সংমিশ্রণে সোনম কাপুরের এবারের সাজ যেন এক টুকরো সময়কে ফিরিয়ে আনলো। আবু জানি–সন্দীপ খোসলার ৪০ বছর পূর্তির তারকাখচিত আয়োজনে অভিনেত্রীর আইভরি-সাদা সাজে ফুটে উঠলো ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও নিখুঁত গ্ল্যামারের অনন্য সমন্বয়।

ফ্যাশন ও বিনোদনজগতের একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে জমজমাট ছিল এই আয়োজন। তবে নিজের স্বতন্ত্র স্টাইলের জন্য পরিচিত সোনম সেদিনও আলাদা করে নজর কাড়েন। আবু জানি–সন্দীপ খোসলার নকশার চেনা জাঁকজমককে নিজের মতো করে ধারণ করে তিনি তৈরি করেছিলেন এক সংযত অথচ দারুণ রাজকীয় লুক।

সোনমের পরনে ছিল আইভরি-সাদা রঙের লম্বা, ঢেউ খেলানো কুর্তা। পুরো পোশাকে একই রঙের ওপর টোন-অন-টোন ফুলের সূক্ষ্ম কারুকাজ তৈরি করেছিল নরম টেক্সচার। ভারী কাজ থাকলেও কোথাও তা অতিরিক্ত মনে হয়নি। বরং সংযত রঙ আর সূক্ষ্ম নকশাই পোশাকটিকে দিয়েছে পুরোনো দিনের অভিজাত সৌন্দর্য।

কুর্তাটির ভি-আকৃতির গলার চারপাশে ছিল সূক্ষ্ম রুপালি অলংকরণ। তবে পুরো পোশাকের সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ ছিল সামনের দিকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নেমে আসা সিকুইন ও মিরর-ওয়ার্কের পাড়। আলো পড়লেই এর মৃদু ঝিলিক সোনমের সাজে যোগ করছিল বাড়তি আকর্ষণ।

লম্বা কুর্তার সঙ্গে ছিল একই রঙের প্রশস্ত ওড়না। সোনম সেটি কেপের মতো করে কাঁধে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। দুই পাশ দিয়ে নেমে আসা ওড়নাটি তার চলনে এনে দিয়েছিল নাটকীয়তা ও রাজকীয় সৌন্দর্য।

ওড়নাজুড়েও ছিল সিকুইনের সূক্ষ্ম কাজ। রুপালি জরির কারুকাজে সাজানো পাড় পুরো পোশাকের আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সংযত আইভরি রঙের মাঝেও কারুশিল্পের প্রতিটি সূক্ষ্মতা হয়ে উঠেছে স্পষ্ট।

অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রেও সোনম বেছে নিয়েছিলেন জমকালো, তবে হিসাবি আয়োজন। সাদা ও রুপালি রঙের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরেছিলেন লম্বা ঝাড়বাতির মতো কানের দুল। ক্রিস্টালের ভারী কাজের সঙ্গে সূক্ষ্ম মুক্তোর ঝালর দুলগুলোকে দিয়েছে রাজকীয় রূপ।

এর সঙ্গে হাতে ছিল বড় আকারের স্টেটমেন্ট ককটেল রিং। তবে গলায় কোনও হার পরেননি সোনম। গলার অংশটি ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁকা রেখে তিনি পোশাক ও কানের দুলকেই লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলেছেন।

এই স্টাইলিং সিদ্ধান্তই সাজটিকে আরও পরিশীলিত করেছে। কারণ ভারী পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত গয়না যোগ না করে সোনম জায়গা দিয়েছেন পোশাকের কারুকাজকে নিজের গল্প বলার।

সোনমের চুল ছিল খোলা। মাঝখান থেকে সিঁথি করে স্লিক স্টাইলে সাজানো চুল পুরো লুকে দিয়েছে পরিষ্কার ও আধুনিক আবহ।

মেকআপেও ছিল একই ধরনের সংযম। হালকা করে ফুটিয়ে তোলা চোখ, গোছানো ভ্রু, গালে নরম আভা এবং মিউটেড ন্যুড-পিঙ্ক ঠোঁটে তার মেকআপ ছিল পোশাকের জাঁকজমকের ভারসাম্য রক্ষার মতো।

ফলে মুখের সাজ বা চুল কোনোটিই পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যায়নি। বরং সবকিছু মিলে তৈরি হয়েছে একটি পরিপূর্ণ, পালিশ করা লুক।

সোনম কাপুরের এই সাজে আবু জানি–সন্দীপ খোসলার চেনা নান্দনিকতা স্পষ্ট। ভারতীয় ঐতিহ্যের সূক্ষ্ম কারুকাজ, রাজকীয় সিলুয়েট ও ঝলমলে অলংকরণের সঙ্গে আধুনিক স্টাইলিংকে এমনভাবে মেলানো হয়েছে, যাতে পোশাকটি একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ও সমকালীন মনে হয়। পুরোনো দিনের রাজকীয় গ্ল্যামারকে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষায় নতুন করে তুলে ধরার এক অনবদ্য মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।