ছোট বাসায় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা বেশ কঠিন। মেঝেতে বেশি ফার্নিচার রাখলে চলাচলের জায়গা কমে যায়, আবার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলে রাখলেও ঘর অগোছালো দেখায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের দেয়াল হতে পারে বাড়তি স্টোরেজ তৈরির কার্যকর জায়গা। সঠিক পরিকল্পনায় দেয়াল ব্যবহার করলে মেঝেতে জায়গা না নিয়েই অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস গোছানো সম্ভব।
দেয়ালে তাক বসানো এর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি। বই, ছোট গাছ, ছবির ফ্রেম, সাজসজ্জার সামগ্রী কিংবা প্রতিদিন ব্যবহার করা ছোট জিনিস রাখার জন্য বিভিন্ন আকারের তাক ব্যবহার করা যায়। তবে দেয়ালে তাক বসানোর আগে সেখানে কী ধরনের ওজন রাখা হবে, তা বিবেচনা করা জরুরি। ভারী জিনিস রাখার ক্ষেত্রে দেয়ালের গঠন এবং উপযুক্ত ফিক্সিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বসার ঘরে দেয়ালের নিচের অংশও কাজে লাগানো যায়। টিভির নিচে দেয়ালজুড়ে ভারী ক্যাবিনেট বসানোর বদলে দেয়ালে লাগানো সরু তাক বা ভাসমান শেলফ ব্যবহার করলে মেঝের জায়গা খালি থাকে। এতে ঘর তুলনামূলক প্রশস্ত দেখায় এবং ছোটখাটো জিনিস গুছিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
রান্নাঘরে দেয়ালের ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। রান্নার সরঞ্জাম, মসলা রাখার ছোট তাক, কাপ বা চামচের জন্য হুক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়ালে সাজিয়ে রাখা যায়। এতে রান্নার কাউন্টার তুলনামূলক ফাঁকা রাখা সম্ভব হয়। তবে চুলার আশপাশে কী রাখা হচ্ছে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তাপ, আগুন বা তেলের ছিটা থেকে সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন জিনিস সেখানে না রাখাই ভালো।
শোবার ঘরেও দেয়ালকে স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বিছানার দুই পাশে ছোট তাক বা ওয়াল-মাউন্টেড শেলফ বসিয়ে বই, চশমা, মোবাইল ফোন কিংবা ছোট প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা যেতে পারে। এতে আলাদা বেডসাইড টেবিলের প্রয়োজন কমে যায় এবং বিছানার আশপাশে চলাচলের জায়গা বাড়ে।
দরজার পেছনের দেয়াল বা দরজার সঙ্গে ঝুলন্ত অর্গানাইজারও ছোট ঘরে বেশ কাজে আসতে পারে। ব্যাগ, ছোট পোশাক, জুতা, পরিষ্কার করার সামগ্রী কিংবা অন্যান্য হালকা জিনিস সেখানে রাখা যায়। তবে দরজা খোলা-বন্ধে সমস্যা হয় কি না এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে দরজার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।
বাথরুমের দেয়ালও পরিকল্পনা করে ব্যবহার করা যায়। তোয়ালে, প্রসাধনসামগ্রী কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস রাখার জন্য উপযুক্ত শেলফ বা হুক বসানো যেতে পারে। তবে বাথরুমে আর্দ্রতা বেশি থাকায় উপকরণ বাছাইয়ের সময় পানি ও আর্দ্রতা সহনশীলতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রবেশপথের দেয়ালেও ছোট স্টোরেজ তৈরি করা যায়। চাবি, ব্যাগ, ছাতা বা দৈনন্দিন বাইরে যাওয়ার সামগ্রী রাখার জন্য ছোট হুক বা সরু শেলফ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বাইরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে সময় কম লাগে এবং ঘরের অন্য জায়গায় এসব সামগ্রী ছড়িয়ে থাকার সম্ভাবনাও কমে।
শুধু স্টোরেজ নয়, দেয়ালকে ব্যবহার করে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ানো যায়। কয়েকটি ছবি বা ফ্রেম, আয়না, ঘড়ি কিংবা সীমিত সংখ্যক ডেকোরেশন দেয়ালে সাজানো যেতে পারে। তবে দেয়ালে অতিরিক্ত জিনিস ঝুলিয়ে ফেললে ঘর ভারী ও অগোছালো দেখাতে পারে। তাই খালি জায়গা ও সাজসজ্জার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
দেয়ালে কিছু বসানোর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। বৈদ্যুতিক তার বা পানির পাইপের অবস্থান না জেনে দেয়ালে ড্রিল করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভারী তাক বা ক্যাবিনেট লাগানোর ক্ষেত্রে সঠিক ধরনের অ্যাঙ্কর, স্ক্রু ও মাউন্টিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা দরকার। শিশুদের ঘরে ভারী জিনিস এমনভাবে বসানো উচিত, যাতে টেনে ফেললেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম থাকে।
আরেকটি বিষয় হলো দেয়ালকে স্টোরেজ বানাতে গিয়ে অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে না ফেলা। জায়গা পাওয়া যাচ্ছে বলেই সবকিছু সেখানে রাখা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যবহার হয় এমন জিনিস সামনে এবং কম ব্যবহৃত জিনিস অন্য জায়গায় রাখলে ঘর পরিষ্কার ও গোছানো রাখা সহজ হয়।
ছোট ঘরের ক্ষেত্রে দেয়ালের ওপরের অংশও কাজে লাগানো যেতে পারে। মেঝে থেকে ওপরে তাক বা ক্যাবিনেট তৈরি করলে একই জায়গায় বেশি জিনিস রাখা সম্ভব হয়। তবে খুব উঁচুতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস না রাখাই ভালো। প্রয়োজন হলে নিরাপদ মই বা স্টেপ-স্টুল ব্যবহার করতে হবে।
ঘরের জায়গা বাড়ানো সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনায় সংরক্ষণের জায়গা বাড়ানো যায়। দেয়ালকে কাজে লাগানোর মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মেঝের জায়গা খালি রাখা, প্রয়োজনীয় জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে রাখা এবং ঘরের চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
তাই নতুন কোনো বড় ফার্নিচার কেনার আগে একবার ঘরের দেয়ালগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া যেতে পারে। কোথায় একটি তাক, কোথায় কয়েকটি হুক কিংবা কোথায় সরু ক্যাবিনেট বসানো সম্ভব সেটি পরিকল্পনা করলেই অল্প জায়গার ঘরেও অনেক বেশি জিনিস সুন্দরভাবে গোছানো সম্ভব।