দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব, আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। এই উপলক্ষে অনেকেই বাড়িতে ছোটখাটো পার্টির আয়োজন করেন। তবে ব্যস্ততার কারণে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে ওঠে না অনেকেরই। শেষ মুহূর্তে বন্ধু বা আত্মীয়দের নিমন্ত্রণ করেছেন? চিন্তা নেই। হাতে মাত্র দু’ঘণ্টা থাকলেও সাজিয়ে ফেলতে পারেন জমজমাট পার্টির আয়োজন। শুধু মেনু বাছাই আর পরিবেশনের ক্ষেত্রে রাখতে হবে একটু কৌশল।
শুরু হোক পানীয় দিয়ে
অতিথিদের আপ্যায়নে শুরুতেই রাখতে পারেন দু’ধরনের পানীয়। বাজারে পাওয়া কোল্ড ড্রিংকস দিয়ে সহজেই বানিয়ে নেওয়া যায় মকটেল। কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে থেঁতো করা পুদিনাপাতা, পাতিলেবুর রস, জলজিরা ও সামান্য খনিজ লবণ মিশিয়ে তৈরি করুন লেমন মোহিতোর মতো পানীয়। পাশাপাশি রাখতে পারেন লাচ্ছি বা লেমনেড। বেশি রকমের পানীয়ের আয়োজন না করে দু’টি পদ রাখলেই যথেষ্ট। সুন্দর গ্লাসে পরিবেশন করলে দেখতে আকর্ষণীয় লাগবে।
চাটে জমে উঠুক আড্ডা
পার্টির শুরুতে মুখরোচক কিছু খাবার থাকলে আড্ডাও জমে ওঠে। অল্প সময়ে তৈরি করতে পারেন পাপড়ি চাট। একটি প্লেটে পাপড়ি সাজিয়ে তার উপরে ছোলা বা মটর দিয়ে তৈরি আলুকাবলি দিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন ধনেপাতা, তেঁতুলের চাটনি ও ঝুরিভাজা। চাইলে দোকান থেকে তৈরি আলুকাবলি আনিয়েও এই পদ বানিয়ে নিতে পারেন। এতে সময় ও পরিশ্রম দুটোই বাঁচবে।
চটজলদি স্ন্যাক্সের আয়োজন
হাতে সময় কম থাকলে বাজার থেকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিজ বল বা চিকেন নাগেটস কিনে আনতে পারেন। এয়ার ফ্রায়ার কিংবা কড়াইয়ে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে। বাড়িতে বানাতে চাইলে হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ছোট টুকরো করে আদা-রসুনবাটা, লেবুর রস, গোলমরিচ, ডিম ও কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে মেখে রাখুন। অতিথিরা আসার আগে ভেজে নিলেই তৈরি চিকেন পকোড়া।
সঙ্গে রাখুন মেয়োনিজ ও টমেটো কেচাপ মিশিয়ে তৈরি ডিপ। পেঁয়াজ ও শসা গোল করে কেটে তার উপর লেবুর রস, নুন ও চাট মশলা ছড়িয়ে বানিয়ে ফেলুন সহজ সালাদ। ভাজাভুজির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর কিছু রাখতে চাইলে বাদাম, রোস্টেড মাখানা কিংবা মাখনে পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ভাজা সেদ্ধ ডিম পরিবেশন করতে পারেন।
মূল খাবারে থাকুক সহজ আয়োজন
পানীয় ও স্ন্যাক্সের পর মূল খাবারের জন্য খুব বেশি পদ রাখার প্রয়োজন নেই। বিরিয়ানি বা মোরগ পোলাওয়ের সঙ্গে রাখতে পারেন মাংসের কোনও পদ। চাইলে রুমালি রুটি বা নানের সঙ্গে মাংস পরিবেশন করতে পারেন। বাড়িতে রান্নার পরিকল্পনা থাকলে কাজু-কিশমিশ দিয়ে মিষ্টি ফ্রায়েড রাইস বানিয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে মুরগি বা খাসির মাংসের পদ ভালো মানাবে। নিরামিষ মেনুতে রাখতে পারেন ছানার কোফতা কিংবা নবরত্ন কোরমা।
পরিবেশনেও থাকুক যত্ন
কম সময়ে পার্টির আয়োজন করতে গেলে খাবারের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে পরিবেশনের দিকে নজর দিন। স্ন্যাক্সের সঙ্গে ছোট ছোট পাত্রে সস ও ডিপ সাজিয়ে রাখুন। পানীয়ের জন্য আলাদা গ্লাস এবং সালাদের জন্য সুন্দর একটি প্লেট বেছে নিন। আগে থেকে টেবিল গুছিয়ে রাখলে অতিথিরা আসার পর আর তাড়াহুড়ো করতে হবে না। সামান্য পরিকল্পনাতেই দু’ঘণ্টার মধ্যে সাজিয়ে ফেলতে পারবেন দীপাবলির ঘরোয়া পার্টি।