‘দ্য ভ্যান’ তারকা শ্বেতা তিওয়ারির বিলাসবহুল মুম্বাইয়ের বাড়ির অন্দরসজ্জা

অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির নতুন সিনেমা ‘দ্য ভ্যান’ মুক্তি পাচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর। এতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অনুপ সোনি, তামান্না ভাটিয়া ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। বিহারের বিহটা এলাকার বন দেবী মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত ১৬ শতকের একটি লোককাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।

সিনেমাটির প্রচারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘কিউঁকি সাস ভি কভি বহু থি’ ধারাবাহিকের একাধিক পর্বে দেখা গেছে শ্বেতাকে। সিনেমা মুক্তির ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি দিকও নজর কাড়ে, মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল বাড়ির অন্দরসজ্জা। সাদা দেয়াল, কাঠের আসবাব, রঙিন আলোকসজ্জা ও শিল্পকর্মের সমন্বয়ে সাজানো এই বাড়িতে রয়েছে আধুনিকতার সঙ্গে রুচিশীলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ।

শ্বেতা তিওয়ারির বিলাসবহুল মুম্বাইয়ের বাড়ি (ছবি: সংগৃহীত)

সাদা-রঙের ছোঁয়ায় রুচিশীল অন্দরসজ্জা

মেয়ে পলক ও ছেলে রেয়াংশকে নিয়ে মুম্বাইয়ে থাকেন শ্বেতা তিওয়ারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই নিজের বাড়ির নানা অংশের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সাদা দেয়ালের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করা আসবাব ও উজ্জ্বল সাজসজ্জার উপকরণ বাড়ির প্রতিটি অংশে এনে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ।

বাড়িজুড়ে রয়েছে ইনডোর গাছ, কাঠের আসবাব, রঙিন ল্যাম্প ও বিভিন্ন শিল্পকর্ম। এসব উপকরণ ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো অন্দরসজ্জায় যোগ করেছে প্রাণবন্ত আবহ। শ্বেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতেও প্রায়ই এসব উপকরণ চোখে পড়ে।

প্রধান দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যায় বসার ঘর। সেখানে মুখোমুখি রাখা হয়েছে বেইজ রঙের সোফা। সোফার ওপর নানা রঙের কুশন ব্যবহার করে ঘরে যোগ করা হয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। ফলে নিরপেক্ষ রঙের আসবাবের মধ্যেও বসার ঘরটি হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।

করিডরের কাছে কাচের শেলফে সাজানো শ্বেতার বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা (ছবি: সংগৃহীত)

করিডোর ধরে এগোলেই চোখে পড়ে কাচের একটি শেলফ। সেখানে সাজানো রয়েছে শ্বেতার বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। ঘরের বড় বড় জানালা দিয়ে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে, যা বাড়ির প্রতিটি কোণকে করে তোলে আরও উজ্জ্বল ও খোলামেলা।

বাড়িতেই জিম ও বড় বারান্দা

শ্বেতার বাড়িতে রয়েছে আলাদা একটি জিমরুমও। সেখানে রাখা হয়েছে মাল্টিফাংশনাল পাওয়ার মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের ওজন তোলার সরঞ্জাম। ফলে শরীরচর্চার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকটাই কমে যায়।

বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ বড় বারান্দা। সেখান থেকে দেখা যায় মুম্বাই শহরের বিস্তৃত দৃশ্য। খোলা এই জায়গাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে নান্দনিক লাইট ফিক্সচার, যা সন্ধ্যার পর পরিবেশে যোগ করে উষ্ণ ও আরামদায়ক আবহ।

তার অন্দরসজ্জায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে স্টেটমেন্ট পেইন্টিং (ছবি: সংগৃহীত)

শিল্পকর্মে আলাদা মাত্রা

বাড়ির অন্দরসজ্জায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে স্টেটমেন্ট পেইন্টিংয়ের সংগ্রহ। দেয়ালে থাকা এসব শিল্পকর্ম ঘরের সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে শিল্পকর্মগুলো এমনভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে তা ঘরের মূল সজ্জাকে ছাপিয়ে না গিয়ে বরং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন নকশাদার অ্যাকসেন্টও রয়েছে ঘরের নানা অংশে। এসব ছোট ছোট উপাদান প্রতিটি ঘরে আলাদা চরিত্র তৈরি করেছে এবং পুরো বাড়ির নান্দনিকতাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।

হোটেলের মতো শোবার ঘর

শ্বেতার শোবার ঘরে রয়েছে হোটেলের মতো পরিপাটি ও আরামদায়ক আবহ। আপহোলস্টার্ড হেডবোর্ডের সঙ্গে রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় কয়েকটি মিনিমাল আসবাব। ঘরের মার্জিত ল্যাম্পগুলো অন্দরসজ্জায় যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য।

বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ বড় বারান্দা (ছবি: সংগৃহীত)

পরিপাটি বিছানার চাদর এবং মৃদু রঙের ব্যবহার শোবার ঘরটিকে দিয়েছে শান্ত ও প্রশান্ত পরিবেশ। অতিরিক্ত সাজসজ্জা এড়িয়ে পরিমিত উপকরণ ব্যবহারের কারণে ঘরটিতে ফুটে উঠেছে মিনিমাল নান্দনিকতা।

ডাইনিংয়ে ঝাড়বাতির নজরকাড়া উপস্থিতি

রান্নাঘরের ঠিক সামনে রাখা হয়েছে ডাইনিং টেবিল। সাদা রঙের টেবিলটির চারপাশে রয়েছে বাদামি রঙের চেয়ার। টেবিলের পেছনের দেয়ালে লাগানো আয়নাগুলোতে রয়েছে সুন্দর পাতার নকশা, যা দেয়ালজুড়ে তৈরি করেছে আলাদা একটি ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ।

তবে ডাইনিংয়ের সবচেয়ে নজরকাড়া উপাদান ঝাড়বাতিটি। টেবিলের ওপর ঝুলন্ত এই আলোকসজ্জাটি দেখতে অনেকটা ছাদ থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা কাচের গ্লাসের মতো। অভিনব নকশার এই ঝাড়বাতি পুরো ডাইনিং স্পেসের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

নকশাদার টাইলসে রান্নাঘর

রান্নাঘরের অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে আধুনিক ও পরিশীলিত নকশার ছাপ। দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে নকশাদার টাইলস, যা সাধারণ রান্নাঘরের চেহারায় এনেছে বাড়তি বৈচিত্র্য।

সব মিলিয়ে শ্বেতা তিওয়ারির মুম্বাইয়ের বাড়িতে আধুনিক অন্দরসজ্জার সঙ্গে ব্যক্তিগত রুচির সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়। সাদা দেয়াল, কাঠের আসবাব, সবুজ গাছ, রঙিন আলো ও শিল্পকর্ম প্রতিটি উপাদানই আলাদা করে নজর কাড়ে, আবার একসঙ্গে তৈরি করে একটি পরিপাটি ও নান্দনিক আবহ।