পিঠাপুলির আয়োজনে এবার বানান দুধ পাটিসাপটা

শীতের পিঠাপুলির আয়োজনে পাটিসাপটার জনপ্রিয়তা বরাবরই আলাদা। নারকেল ও ক্ষীরের পুরে ভরা নরম পাটিসাপটা যদি আবার ঘন দুধে ডুবিয়ে পরিবেশন করা হয়, তাহলে স্বাদ হয়ে ওঠে আরও লোভনীয়। ঘরোয়া উপকরণে সহজেই তৈরি করা যায় এই দুধ পাটিসাপটা। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পরিবারের সঙ্গে শীতের বিকেলের মিষ্টিমুখ সব আয়োজনেই রাখতে পারেন এই পিঠা।

দুধ পাটিসাপটা তৈরিতে যা লাগবে

পাটিসাপটার ব্যাটার তৈরির জন্য লাগবে এক কাপ ময়দা, আধা কাপ চালের গুঁড়ো, আধা কাপ সুজি, এক কাপ চিনি বা গুড়, দুই কাপ তরল দুধ, আধা কাপ গুঁড়ো দুধ এবং সামান্য লবণ।

পুরের জন্য লাগবে দেড় কাপ কোরানো নারকেল, আধা কাপ ক্ষীর বা ছানা এবং স্বাদ অনুযায়ী সামান্য চিনি বা গুড়। পাটিসাপটা ভাজার জন্য লাগবে অল্প ঘি।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে পাটিসাপটার পুর তৈরি করে নিন। কড়াইতে কোরানো নারকেল ও ক্ষীর বা ছানা দিয়ে দিন। এর সঙ্গে স্বাদ অনুযায়ী সামান্য চিনি বা গুড় মিশিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। পুরটি কিছুটা শুকনো ও ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।

এবার পাটিসাপটার ব্যাটার তৈরি করতে একটি পাত্রে ময়দা, চালের গুঁড়ো, সুজি, চিনি ও সামান্য লবণ নিন। এর সঙ্গে অল্প অল্প করে তরল দুধ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কোনও দানা যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ব্যাটারটি মসৃণ ও পাতলা হওয়া উচিত। তৈরি হয়ে গেলে প্রায় ১০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন।

এরপর একটি সমতল প্যান বা তাওয়ায় সামান্য ঘি ব্রাশ করে গরম করুন। এক হাতা ব্যাটার প্যানে দিয়ে দ্রুত ঘুরিয়ে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। পাটিসাপটার মতো পাতলা রুটি তৈরি হয়ে এলে মাঝখানে নারকেল ও ক্ষীরের পুর দিয়ে দিন। এবার দুই পাশ ভাঁজ করে রোল করে নিন। এভাবে সব পাটিসাপটা তৈরি করে রাখুন।

এবার দুধের অংশটি তৈরি করতে অন্য একটি পাত্রে তরল দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করে নিন। এতে স্বাদ অনুযায়ী সামান্য চিনি বা গুড় মিশিয়ে নিন। দুধ ফুটে ঘন হয়ে এলে তৈরি করা পাটিসাপটাগুলো এতে দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিন।

চুলা থেকে নামিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিবেশন করুন। নরম পাটিসাপটার সঙ্গে ঘন দুধ, নারকেল ও ক্ষীরের পুরের মিষ্টি স্বাদে শীতের দিনে দুধ পাটিসাপটা হতে পারে পরিবারের জন্য দারুণ এক মিষ্টি আয়োজন।