বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা, শুষ্কতা কিংবা টানটান ভাব কমে আসা স্বাভাবিক। তবে বয়সের তুলনায় ত্বকে দ্রুত বার্ধক্যের ছাপ পড়ার পেছনে জীবনযাপন ও পরিবেশেরও কিছু ভূমিকা থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’।
শরীরে নানা বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও বাইরের পরিবেশের প্রভাবে তৈরি হওয়া কিছু অণু কোষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলোর পরিমাণ শরীরের প্রতিরোধক্ষমতার তুলনায় বেড়ে গেলে তৈরি হয় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ব্যবস্থা এসব ক্ষতিকর অণুর প্রভাব সামলে রাখতে সাহায্য করে।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস শুধু ত্বক নয়, শরীরের বিভিন্ন কোষ ও অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কোষের ক্ষতি এবং ত্বকের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সময়ের আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হতে পারে।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কী করবেন
ত্বক ভালো রাখতে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই হবে না, প্রতিদিনের জীবনযাপনেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান, অতিরিক্ত রোদে থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, বাদাম ও বীজ রাখা যেতে পারে। আমলকি, পালংশাক, ব্রোকলি, বিভিন্ন ফল, আখরোট, কাঠবাদাম, তিসি ও কুমড়োর বীজের মতো খাবারে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
অতিরিক্ত মিষ্টি ও বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ত্বকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসও দৈনন্দিন সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। নিয়মিত হাঁটা, ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান বা নিজের পছন্দের শান্ত কোনো কাজে কিছুটা সময় কাটানো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। বাইরে বের হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নেওয়া এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্নের রুটিন মেনে চললে ত্বকের অকাল ক্ষতির ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে শুধু কোনো একটি খাবার, পানীয় বা ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব- এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, দ্রুত বয়সের ছাপ বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে কারণ বুঝতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।