বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টার বদলে নিজেকে গ্রহণ করা, নিজের যত্ন নেওয়া এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দকে উপভোগ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই মনে করেন হলিউড অভিনেত্রী ডেমি মুর। এ বছর ১১ নভেম্বর ৬৪ বছরে পা দেবেন তিনি। বয়সকে তাই তাঁর কাছে শুধু সময়ের হিসাব নয়, বরং নিজেকে আরও ভালোভাবে জানার ও গ্রহণ করার একটি সুযোগ।
সম্প্রতি হার্পার’স বাজার অ্যারাবিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু নিয়ে কথা বলেছেন ডেমি। তাঁর মতে, সুন্দরভাবে বয়স বাড়ার বিষয়টি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ব্যক্তিগত বিকাশ, সম্পর্ক, জীবনের অভিজ্ঞতা এবং নিজের প্রতি যত্ন সবকিছুই এর অংশ।
দিন শুরু হোক কৃতজ্ঞতায়
ডেমির দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। ঘনিষ্ঠ একদল নারী বন্ধুর সঙ্গে তিনি প্রতিদিন কৃতজ্ঞতার একটি তালিকা ভাগ করে নেন। সেখানে জীবনের তিনটি কৃতজ্ঞতার বিষয়, তিনটি চ্যালেঞ্জ বা ভয় এবং নিজের একটি ইতিবাচক গুণ বা অ্যাফারমেশন শেয়ার করা হয়।
তাঁর মতে, দিনের শুরুতেই জীবনে যা কিছু আছে, সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া মনকে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে। ডেমির কাছে এটি কোনও এককালীন অভ্যাস নয়, বরং প্রতিদিনের চর্চা।
নিজেকে বিচার নয়, গ্রহণ করুন
নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত বিচার করার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাকেও বয়সকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন ডেমি। তাঁর মতে, নিজের প্রতি ভালোবাসার শুরু হয় নিজেকে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে। নিজের ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করাও সেই পথেরই অংশ।
অর্থাৎ, বয়সের সঙ্গে বদলে যাওয়া চেহারা বা শরীরকে নিয়ে অযথা সমালোচনা না করে নিজের বর্তমান রূপকে গ্রহণ করাই হতে পারে আত্মভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
নিজের মানুষগুলোকে কাছে রাখুন
ডেমির সৌন্দর্যচর্চার দর্শনে সম্পর্কেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ নারী বন্ধুদের দলকে তিনি একটি ‘নারীদের কমিউনিটি’ হিসেবে দেখেন। এই সম্পর্কগুলো তাঁকে নিজের কথা প্রকাশ করার, অন্যের কথা শোনার এবং জীবনের নানা অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
তাঁর মতে, শক্তিশালী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক জীবনে স্থিরতা এনে দিতে পারে। তবে সেই সম্পর্ক সবসময় গভীর বা গুরুগম্ভীর হতে হবে, এমন নয়। একসঙ্গে হাসি-আনন্দ করা, হালকা সময় কাটানো এবং ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘায়ু মানে শুধু বেশি বছর নয়
ডেমির কাছে দীর্ঘ জীবন মানে আরও বেশি বছর বেঁচে থাকা নয়, বরং সেই বছরগুলোকে অর্থবহ করে তোলা। নিজের ওপর, পরিবারের ওপর এবং নিজের কমিউনিটির ওপর বিনিয়োগ করাকেই তিনি দীর্ঘ ও পরিপূর্ণ জীবনের অংশ হিসেবে দেখেন।
কারও প্রতি সামান্য দয়া দেখানো, কাউকে সময় দেওয়া কিংবা শুধু আন্তরিকভাবে হাসিমুখে কথা বলাও তাঁর কাছে মূল্যবান। এসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতাই দিনের শেষে ভেতরে এক ধরনের পরিপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি করে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
ডেমি মুরের এই দর্শনে সৌন্দর্য তাই শুধু ত্বকের যত্ন, মেকআপ বা তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিজের বয়সকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা, নিজের প্রতি সদয় হওয়া, কৃতজ্ঞ থাকা এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক ধরে রাখার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে বয়সকে সুন্দরভাবে উদযাপনের রহস্য।
সূত্র: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস