কাজের চাপ আর দুশ্চিন্তায় মন খারাপ? ৫ অভ্যাসে ফিরবে স্বস্তি

পূজা আসতে আর বেশি দেরি নেই। নতুন পোশাক, ঘোরাঘুরি, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেলেও তার মাঝেই যদি কাজের চাপ আর নানা চিন্তা মাথা ভার করে রাখে, তাহলে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই মাটি হতে পারে। মনকে চাঙ্গা রাখতে তাই প্রতিদিন আলাদা করে দীর্ঘ সময় বের করার প্রয়োজন নেই। দিনের শুরু কিংবা শেষে কয়েক মুহূর্ত নিজের জন্য রাখলেই শরীর ও মনকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া সম্ভব।

শান্ত হয়ে বসুন

প্রথমেই একটি নিরিবিলি জায়গা বেছে নিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। চোখ বন্ধ করে কয়েক মুহূর্ত শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মন দিন। ধীরে শ্বাস নিন, আবার ধীরে ছাড়ুন। অন্য কোনও চিন্তা মাথায় এলে তাতে মন না দিয়ে ফের শ্বাসের দিকে মনোযোগ ফেরানোর চেষ্টা করুন।

শ্বাসের ছন্দ ঠিক করুন

উদ্বেগের সময় অনেকের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে। গভীর ভাবে শ্বাস নিয়ে কয়েক মুহূর্ত থামুন। তার পর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। কয়েক বার এই অনুশীলন করার পর কিছুক্ষণ স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন।

সহজ প্রাণায়াম করুন

সকালে বা সন্ধ্যায় অল্প সময় সহজ প্রাণায়াম করা যেতে পারে। মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসে ধীরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলনের সময় বাড়াতে পারেন। তবে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রাণায়াম করা ভালো।

কয়েক মিনিট মুদ্রার অভ্যাস

প্রাণ মুদ্রার মতো সহজ একটি মুদ্রা করে কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারেন। দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে চোখ বন্ধ করুন। এ সময় মোবাইল, কাজ কিংবা অন্য কোনও বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কয়েক মিনিটের এই বিরতিটুকু ব্যস্ত দিনের মধ্যে মনকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

বুক ও কাঁধের জড়তা কাটান

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করলে ঘাড়, কাঁধ ও বুকের পেশিতে টান ধরতে পারে। চেয়ারে সোজা হয়ে বসে দুই কাঁধ ধীরে পেছনের দিকে নিন। দুই হাত পিঠের দিকে নিয়ে হালকা করে টান দিন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। অনুশীলনের সময় স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।

পূজার আনন্দ উপভোগ করতে শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও জরুরি। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য কয়েক মুহূর্ত বরাদ্দ রাখুন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত উদ্বেগ, মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা বা দৈনন্দিন কাজে অনীহা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।