কে কীভাবে ফ্লার্ট করেন? নারী-পুরুষের পার্থক্য নিয়ে গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩২ আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩২

কেউ হয়তো একটু বেশি সময় তাকিয়ে রইলেন। চোখাচোখি হতেই মৃদু হাসলেন। কেউ কথার ফাঁকে অকারণে একটু কাছে এসে দাঁড়ালেন। আবার কেউ হয়তো সরাসরি কিছু না বলেও এমনভাবে কথা বাড়াতে থাকলেন, যাতে বুঝতে বাকি থাকে না—আগ্রহটা নিছক বন্ধুত্বের নয়।

প্রেমের শুরুটা অনেক সময় ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি’ দিয়ে হয় না। বরং চোখের চাহনি, এক টুকরো হাসি, কথার ভঙ্গি কিংবা ছোট্ট কোনও স্পর্শের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের মনের খবর জানিয়ে দেয়। কিন্তু নারী-পুরুষ কি একইভাবে সেই খবর দেন? যে আচরণ একজনের কাছে আকর্ষণের সংকেত, অন্যজনের কাছেও কি সেটিই সমান অর্থ বহন করে?

গবেষণা বলছে, মোটেও নয়। ফ্লার্টেরও আছে নিজস্ব ভাষা। আর সেই ভাষা বদলে যেতে পারে সম্পর্কের উদ্দেশ্য অনুযায়ী।

কাউকে পছন্দ করার কথা জানানো যতটা রোমাঞ্চকর, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়টাও ততটাই বাস্তব। তাই মানুষ অনেক সময় সরাসরি নিজের আগ্রহ প্রকাশ না করে ইঙ্গিতের আশ্রয় নেয়। একটু বেশি সময় তাকানো, কাছে দাঁড়ানো, হাসা, স্পর্শ করা কিংবা কথার অজুহাতে সময় বাড়িয়ে নেওয়া—এসবের মধ্য দিয়েই যেন বলা হয়, ‘তোমাকে আমার ভালো লাগছে।’

নারীদের ক্ষেত্রে কী বেশি কাজ করে?

২০১৫ সালে চারটি গবেষণায় নারী-পুরুষের এই সূক্ষ্ম আচরণগুলো খতিয়ে দেখেছিলেন গবেষক টি. জোয়েল ওয়েড ও জেনিফার স্লেম্প। তারা দেখতে চেয়েছিলেন, মানুষ কীভাবে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বিপরীত লিঙ্গের কোন আচরণকে বেশি কার্যকর ফ্লার্ট হিসেবে দেখে।

গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষদের কাছে নারীর কিছু শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সংকেত বেশ কার্যকর বলে মনে হয়েছে। কাছে এসে দাঁড়ানো, শরীর ঘেঁষে থাকা, স্পর্শ করা কিংবা বাহুতে হাত রাখার মতো আচরণ তাদের কাছে আগ্রহ প্রকাশের শক্তিশালী সংকেত হিসেবে ধরা পড়েছে।

নারীদের ক্ষেত্রে ছবিটা একটু আলাদা। পুরুষের শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু সেটুকুতেই বিষয়টি থেমে থাকেনি। হাত ধরা, একসঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব, হাসানো, নিজের আগ্রহ স্পষ্ট করা কিংবা একসঙ্গে রাতের খাবারে যাওয়ার মতো আচরণও তাদের কাছে কার্যকর ফ্লার্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অর্থাৎ, কারও কাছে ‘কাছে আসা’ বড় সংকেত, আবার কারও কাছে ‘সময় দেওয়া’ কিংবা ‘আগ্রহ দেখানো’ই বেশি অর্থবহ।

আর এখানেই ফ্লার্টের গল্পে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়—সম্পর্কের উদ্দেশ্য।

শুধু আকর্ষণ, নাকি দীর্ঘ সম্পর্ক?

২০২২ সালে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ৯৯২ জন বিষমকামী মানুষের ওপর ৪০ ধরনের ফ্লার্টের কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন। অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পরিস্থিতি কল্পনা করতে বলা হয়—কেউ স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কে আগ্রহী, আবার কেউ খুঁজছেন দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক।

স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীদের শারীরিক আকর্ষণ ও যৌন আগ্রহের সংকেত তুলনামূলক বেশি কার্যকর বলে মনে হয়েছে। শারীরিক স্পর্শ, নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা কিংবা আকর্ষণীয় পোশাক—এসব আচরণ সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও শারীরিক আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তার পাশাপাশি হাসি, কথাবার্তায় আগ্রহ দেখানো, প্রশংসা করা কিংবা নারীকে হাসানোর মতো আচরণও কার্যকর বলে বিবেচিত হয়েছে।

কিন্তু সম্পর্কের সম্ভাবনা যখন কয়েকটি রাত পেরিয়ে আরও দূর পর্যন্ত যায়, তখন ফ্লার্টের ভাষাটাও যেন বদলে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য উদারতা, প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত, যত্ন, রসবোধ এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো আচরণ বেশি কার্যকর বলে মনে হয়েছে। আর মজার বিষয় হলো, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কার্যকর ফ্লার্টের শীর্ষ ১০টি কৌশলের মধ্যে নয়টিই একই ছিল।

অর্থাৎ, সম্পর্ক যখন শুধু মুহূর্তের আকর্ষণ নয়, বরং একসঙ্গে পথ চলার সম্ভাবনা—তখন নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই কিছু বিষয় প্রায় একই রকম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুধু দেখতে ভালো লাগা নয়; মানুষটি কতটা আন্তরিক, যত্নশীল, রসিক এবং সময় দিতে আগ্রহী—সেসবও তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাহলে ব্যক্তিত্বের ভূমিকা কোথায়?

ফ্লার্টের ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বের প্রভাব থাকার কথা স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে। কিন্তু গবেষণাগুলোতে বহির্মুখী স্বভাব, নিজের চেহারা বা আকর্ষণীয়তা সম্পর্কে ধারণা কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস—এসব বিষয় ফ্লার্ট কতটা কার্যকর হবে, তা খুব শক্তভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

তবে কিছু সাংস্কৃতিক পার্থক্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারীরা শরীর প্রদর্শন, প্রথমে যোগাযোগ করা এবং উদারতার মতো আচরণকে কিছু ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে মনে করেছেন।

আর এমন একটি বিষয় আছে, যেটি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বেশ ভালো কাজ করে—হাসি।

পছন্দের মানুষটির রসিকতায় হাসা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকর ফ্লার্টের কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে। হয়তো কারণ, হাসি এমন এক সংকেত যার মধ্যে আগ্রহ আছে, কিন্তু চাপ নেই; আমন্ত্রণ আছে, কিন্তু দাবি নেই।

শেষ পর্যন্ত ফ্লার্ট হয়তো কোনও বাঁধাধরা নিয়মের খেলা নয়। কারও কাছে চোখে চোখ রাখাই যথেষ্ট, কারও কাছে একটু বেশি সময় দেওয়া। কেউ স্পর্শে আগ্রহের ইঙ্গিত খুঁজে পান, কেউ আবার কথার ভেতরেই শুনে ফেলেন মনের কথা।

তাই প্রেমের শুরুতে সবচেয়ে বড় কৌশল হয়তো কোনও বিশেষ কৌশল নয়। কখন একটু কাছে যেতে হবে, কখন কথা বাড়াতে হবে, আর কখন শুধু একটি হাসিই যথেষ্ট—সেটা বুঝতে পারাটাই হয়তো আসল ফ্লার্ট।

/এম/  
সম্পর্কিত
পানির ওপর শস্যক্ষেত: কৃষকদের ‘দুইশো বছরের ঐতিহ্য’ এখনও বিস্ময়
আধুনিকতার ভিড়েও টিকে আছে বাঁশের ‘চাই’
ব্রিটিশ সাহেবদের চা কীভাবে আমাদের অভ্যাসে পরিণত হলো, আসলে কি ফ্রি দিয়েছিল?
সর্বশেষ খবর
বন্যার মধ্যে ব্যাংকক ভ্রমণ কতটা নিরাপদ? জেনে নিন ৭ জরুরি তথ্য
বন্যার মধ্যে ব্যাংকক ভ্রমণ কতটা নিরাপদ? জেনে নিন ৭ জরুরি তথ্য
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নিয়ে নাটকীয়তা
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নিয়ে নাটকীয়তা
গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল কবে সরছে, জানালেন ডিএমপি কমিশনার
গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল কবে সরছে, জানালেন ডিএমপি কমিশনার
চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’, কবে অবতরণ?
চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’, কবে অবতরণ?
সর্বাধিক পঠিত
ভারতের পর পাকিস্তানি নায়িকা শাকিবের!
ভারতের পর পাকিস্তানি নায়িকা শাকিবের!
কোনও ধনসম্পদ রেখে যাননি ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী, রেখে গেছেন গাড়ি কেনার ঋণ
কোনও ধনসম্পদ রেখে যাননি ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী, রেখে গেছেন গাড়ি কেনার ঋণ
বিলাসবহুল তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসে নাশতা থেকে রাতের খাবার, কী থাকে মেনুতে?
বিলাসবহুল তেজস রাজধানী এক্সপ্রেসে নাশতা থেকে রাতের খাবার, কী থাকে মেনুতে?
ম্যারাডোনা-মেসিকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনা দলে এক তরুণের রেকর্ড
ম্যারাডোনা-মেসিকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনা দলে এক তরুণের রেকর্ড
‘দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা’
‘দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা’