পূজার সময় সাজগোজ, ঘোরাঘুরি আর দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার কারণে ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত তেল, ঘাম ও ধুলাবালির কারণে মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ি কিংবা র্যাশের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তার ওপর নিয়মিত মেকআপ করলে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই উৎসবের আগে থেকেই ত্বকের যত্নে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যায় খুব ভারী উপকরণ ব্যবহার না করে হালকা ও সতেজ রাখে এমন কিছু উপাদান বেছে নেওয়া যায়। ঘরোয়া পরিচর্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি উপায় চেষ্টা করতে পারেন।
মধুর সঙ্গে অলিভ অয়েল
মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে তৈরি করা যেতে পারে একটি সহজ ফেস প্যাক। এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে পাতলা করে লাগিয়ে রাখতে পারেন। প্রায় ১০ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পরে নরম তোয়ালে দিয়ে ঘষাঘষি না করে আলতো করে মুখ মুছে নিন।
তবে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে মুখে তেলজাতীয় উপাদান ব্যবহারে সবার ত্বকের প্রতিক্রিয়া এক রকম নাও হতে পারে। তাই পুরো মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
গ্রিন টি ও মধুর মিশ্রণ
ত্বকের যত্নে গ্রিন টি ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে তা ঠান্ডা করে নিন। দুই টেবিল চামচ ঠান্ডা গ্রিন টির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে মুখে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
নিয়মিত ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদানটি মানাচ্ছে কি না দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ব্রণ বা র্যাশের সমস্যা বেশি থাকলে নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।
শসা ও অ্যালোভেরা
তৈলাক্ত ত্বককে সতেজ রাখতে শসা ও অ্যালোভেরার মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। দুই টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে এক চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি ত্বকে সতেজ অনুভূতি দেয়। অ্যালোভেরা জেলও ত্বকে আরামদায়ক অনুভূতি দিয়ে থাকে। তবে অ্যালোভেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
তবে পূজার আগে ত্বক ভালো রাখতে শুধু ঘরোয়া প্যাকের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা, অতিরিক্ত তেল ও ঘাম জমতে না দেওয়া এবং ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী ব্যবহার করাও জরুরি। ব্রণ, র্যাশ বা ত্বকের জ্বালাপোড়া দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ না করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।