জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তার ছাপ পড়ছে ফ্যাশনেও। তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আরামদায়ক ও হালকা পোশাকের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে এবারের বসন্ত-গ্রীষ্মের সংগ্রহে নতুন ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছে লুই ভুইতো।
লুই ভুইতোর সৃজনশীল পরিচালক নিকোলা জেস্কিয়ের উপস্থাপন করেছেন স্বচ্ছ পোশাক, ঢেউখেলানো জ্যাকেট এবং শরীরঘেঁষা নারীদের পোশাক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধিই পোশাকের নকশা ও কাপড় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে। ফ্যাশন শোর পর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেস্কিয়ের বলেন, ‘পৃথিবী উষ্ণ হয়ে উঠছে।’ ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহও তাঁর এই ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।
জেস্কিয়েরের মতে, উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে মানুষের পোশাকের ধরনও বদলানো প্রয়োজন। তাঁর ভাবনায়, পোশাক শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, তা কতটা হালকা, আরামদায়ক এবং শরীরে স্বস্তি দেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের আবহাওয়ার সঙ্গে পোশাক কতটা মানানসই হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
২০২৭ সালের বসন্ত-গ্রীষ্মের সংগ্রহে তাই ব্যবহার করা হয়েছে হালকা ও ঢেউখেলানো কাপড়। ফিতেযুক্ত পোশাকগুলোতে ছিল স্বাভাবিক দোলাচল ও গতির অনুভূতি। সাদা, নীল ও হালকা গোলাপি রঙের স্বচ্ছ স্কার্ট এবং ঢিলেঢালাভাবে আটকানো জ্যাকেটও ছিল সংগ্রহের অন্যতম আকর্ষণ।
কালো-সাদা চেক নকশার পোশাক এবং ঝলমলে হীরের মতো নকশা করা পোশাকও নজর কেড়েছে। পোশাকের নকশায় ছিল স্বচ্ছন্দতা, হালকাভাব ও চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর জোর।
জ্যাকেটের হাতাগুলো রাখা হয়েছিল আরামদায়ক ও ঢেউখেলানো। কোনও জ্যাকেট আবার মডেলের পেছনে লম্বা ঝুলের মতো নেমে এসেছে। ট্রাউজার ছিল ঢিলেঢালা ও প্রশস্ত, যেখানে আরামের সঙ্গে মিশেছে ব্যতিক্রমী ফ্যাশনের ছোঁয়া। পোশাকের দুই পাশে থাকা লম্বা কাটা অংশগুলোও বাতাস চলাচলের সুযোগ তৈরি করেছে।
আনুষঙ্গিক সাজে ছিল ছোট ও পরিমিত নকশার হাতব্যাগ। লেবু হলুদ ও ক্রিম রঙের এসব ব্যাগ পুরো সাজে এনেছে নরম ও পরিশীলিত আবহ।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জেস্কিয়ের জানান, দেখতে সরল মনে হলেও এমন একটি সংগ্রহ তৈরি করা মোটেও সহজ ছিল না। পোশাককে অত্যন্ত হালকা করে তোলার পাশাপাশি তার কাঠামো ও আকৃতি ঠিক রাখা বেশ জটিল। বিশেষ করে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব সামলে কাপড়কে কাঙ্ক্ষিত আকৃতি ও গতিশীলতা দিতে নতুনভাবে কাপড় তৈরি ও উন্নয়ন করতে হয়েছে।
এদিকে লুই ভুইতোর পরিচিত মনোগ্রামযুক্ত হাতব্যাগের ব্যবহারও এবারের সংগ্রহে ছিল সীমিত। বিলাসবহুল সামগ্রীর পেছনে বিপুল অর্থ খরচের বিষয়ে ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হওয়ায় বিলাসপণ্যের বাজারেও পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় জেস্কিয়েরের সংগ্রহে মনোগ্রাম দেখা গেছে একটি চামড়ার বোম্বার জ্যাকেট ও হাতে গোনা কয়েকটি হাতব্যাগে।
ফ্যাশন শোর অতিথি তালিকাতেও ছিল তারকার সমারোহ। উপস্থিত ছিলেন জেনডায়া, সার্স রোনাঁ, এমা স্টোন, কে-পপ তারকা ফেলিক্স এবং ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ।
লুই ভুইতোর এবারের সংগ্রহে নতুন ফ্যাশনধারায় পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে পোশাককে মানিয়ে নেওয়ার ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবর্তিত উষ্ণ পৃথিবীর জন্য নতুন ধরনের ফ্যাশনের বার্তাই যেন দিয়েছে এই সংগ্রহ।