কেন হঠাৎ চুলের যত্নে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন পুরুষেরা

জীবনযাপন ডেস্ক
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০

চুল পড়ার সমস্যা এখন আর শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসাবে দেখা হচ্ছে না। ক্রমেই ২০ এবং ৩০ -বছর বয়সী পুরুষেরা চুলের সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে শুরু করেছেন। ৩০-এর মাঝামাঝি বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকের কপালের চুলের রেখা পিছিয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য ম্যান ম্যাটার্স হেয়ারফল ইনডেক্স ২০২৬’ প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত নেওয়া ৭ লাখ ৪ হাজার ১৫২টি পরামর্শের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরুষদের মধ্যে চুল পড়ার প্রবণতা এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় তাদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ধরন সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুল পড়া নিয়ে পরামর্শ নেওয়া পুরুষদের প্রায় ৮৭ দশমিক ২ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী পুরুষদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ, তরুণ বয়সেই চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

তরুণেরা পরামর্শ নিচ্ছেন, তবে দেরিতে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকের মাধ্যমে চুল পড়ার মাত্রা নির্ধারণ করা পুরুষদের ৬৫ দশমিক ২ শতাংশই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সময় নরউডের তৃতীয় ধাপ বা তারও বেশি পর্যায়ে ছিলেন।

পুরুষদের চুল পড়ার অগ্রগতি নির্ধারণে ‘নরউড স্কেল’ ব্যবহার করা হয়। এই স্কেলে ধাপ যত বাড়ে, চুল পড়ার মাত্রাও তত বেশি অগ্রসর হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফলাফল বলছে, চুলে পরিবর্তন চোখে পড়ার সময় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মধ্যে বেশ কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। তরুণ পুরুষদের মধ্যেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা বেশি হলেও, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চুল পড়া স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।

ড. সুমিত উপাধ্যায়ের ভাষ্য, “চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে পরামর্শ নেওয়া পুরুষদের ৮৭ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজন ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ধাপ বা তার পরের পর্যায়ে পৌঁছে যান। বয়স বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যত দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়, তত বেশি চিকিৎসার সুযোগ থাকে।”

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, তরুণ পুরুষদের মধ্যে চুল পড়া নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। তবে চুলে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর কত দ্রুত তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে।

৩৫-এর পর পাতলা হওয়ার অভিযোগ বেশি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের চুল নিয়ে উদ্বেগের ধরনও বদলে যায়। ২৫ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে কপালের চুলের রেখা পিছিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বেশি। এই বয়সী পুরুষদের নেওয়া পরামর্শের ১৮ দশমিক ৮ শতাংশের ক্ষেত্রে এটি প্রধান সমস্যা। অন্যদিকে, চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে।

৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। এ বয়সে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার অভিযোগ বেশি- ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কপালের চুলের রেখা পিছিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশের ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ, তরুণ বয়সী পুরুষেরা সাধারণত প্রথমে কপাল ও কানের পাশের চুলের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার ওপরের অংশ ও চূড়ার দিকে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশি চোখে পড়ে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে চুল পড়ার ধরন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠার কারণেও এই পার্থক্য দেখা যেতে পারে। শুরুতে কপালের চুলের রেখা পিছিয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলেও পরে মাথার বিভিন্ন অংশে চুল পাতলা হয়ে যায়।

সব চুল পড়ার অর্থ টাক হয়ে যাওয়া নয়

চুল পড়া বলতে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যাকেই একসঙ্গে বোঝানো হয়। তবে অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়া এবং ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া একই বিষয় নয়।

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, যা সাধারণভাবে পুরুষদের বংশগত টাক পড়া হিসাবে পরিচিত, একটি বংশগত সমস্যা। টেস্টোস্টেরন থেকে তৈরি ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন বা ডিএইচটি নামের হরমোনের প্রতি চুলের ফলিকলের সংবেদনশীলতার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। বয়ঃসন্ধির পর যেকোনো সময় এই সমস্যা শুরু হতে পারে এবং সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে।

অন্যদিকে, সাময়িকভাবে বেশি চুল ঝরে পড়ার সঙ্গে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামের একটি অবস্থার সম্পর্ক থাকে। এতে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্রের ঝরে পড়ার পর্যায়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুল চলে যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অসুস্থতা কিংবা শারীরিক অবস্থার বড় ধরনের পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণে এটি হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব কারণ কেটে গেলে চুল ঝরে পড়ার প্রবণতাও কমে আসে।

তাই বালিশে বা গোসলের সময় আগের তুলনায় বেশি চুল দেখতে পেলেই যে কেউ টাক হয়ে যাচ্ছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন, কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে এবং এর সম্ভাব্য কারণ সবকিছু বিবেচনা করেই বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন।

চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে সচেতনতা

চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখন শুধু চুল পড়া বা টাক হয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জীবনযাপন, পুষ্টি, মানসিক চাপ ও সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ধরন, মাথার ত্বকের যত্ন এবং প্রতিদিনের চুল পরিচর্যার অভ্যাস বিভিন্ন বিষয়ই চুলের পরিবর্তনকে প্রভাবিত করে।

তবে জীবনযাপন ও পুষ্টি চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেললেও সব ধরনের চুল পড়ার কারণ হিসাবে এগুলোকে দায়ী করা যায় না। তাই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে খাদ্যাভ্যাস বা পরিচর্যার ধরন পরিবর্তন না করে এর প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাও জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর চুলের যত্ন বা চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
চুল পড়ার সমস্যায় চিকিৎসক নিজেই নিলেন যে পদক্ষেপ
চুল রুক্ষ ও খুশকিতে জেরবার? স্ক্যাল্পের যত্নে কাজে আসতে পারে যে টোটকা
শক্ত পানিতে চুল ধুলে কি সত্যিই ক্ষতি হয়? যা জানা জরুরি
সর্বশেষ খবর
লন্ডনে বৃহস্পতিবার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা
লন্ডনে বৃহস্পতিবার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
ইলিশ অভিযানের আগে জেলেদের হুমকি, আতঙ্কে মৎস্য কর্মকর্তারা
ইলিশ অভিযানের আগে জেলেদের হুমকি, আতঙ্কে মৎস্য কর্মকর্তারা
যে শিল্পে যুক্ত ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী, বছরে বিদেশ থেকে আসে ৫০ কোটি টাকা
যে শিল্পে যুক্ত ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী, বছরে বিদেশ থেকে আসে ৫০ কোটি টাকা
সর্বাধিক পঠিত
ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে নতুন গাইডলাইন দিলো আইভ্যাক
ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়ে নতুন গাইডলাইন দিলো আইভ্যাক
১৯৪৭ সালের পর আসাম থেকে বাংলাদেশে আসছে প্রথম কোনও নৌযান
১৯৪৭ সালের পর আসাম থেকে বাংলাদেশে আসছে প্রথম কোনও নৌযান
মান-অভিমান ভুলে এক মঞ্চে ফিরছেন জিৎ-দেব
মান-অভিমান ভুলে এক মঞ্চে ফিরছেন জিৎ-দেব
‘মানবিক’ বিবেচনায় যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মুক্তি চাইলেন ছাত্রদল নেতা
‘মানবিক’ বিবেচনায় যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মুক্তি চাইলেন ছাত্রদল নেতা
কবে বিয়ে করবেন কেয়া পায়েল, জানালেন নিজেই
কবে বিয়ে করবেন কেয়া পায়েল, জানালেন নিজেই