অন্দরসজ্জায় নতুন ট্রেন্ড বায়োফিলিক ডিজাইন

ঘর সাজাতে নতুন আসবাব বা দামি শো-পিস কেনাই একমাত্র উপায় নয়। ঘরের প্রতিটি কোণে সবুজ গাছ, প্রাকৃতিক উপকরণ আর স্নিগ্ধ আলোর ব্যবহারেও বদলে যেতে পারে অন্দরসজ্জার চেহারা। বর্তমানে ঘর সাজানোর এমনই একটি জনপ্রিয় ধারা হলো বায়োফিলিক ডিজাইন। এই সাজের মূল ভাবনা প্রকৃতিকে ঘরের পরিবেশের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া। ফলে অন্দরসজ্জায় যেমন আসে নতুনত্ব, তেমনই তৈরি হয় শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ। নিজের বাড়িতে এই ধরনের সাজ আনতে চাইলে কয়েকটি সহজ বিষয় মাথায় রাখতে পারেন।

সবুজ গাছেই বদলে যাবে ঘর (ছবি: সংগৃহীত)

সবুজ গাছেই বদলে যাবে ঘরের চেহারা

বায়োফিলিক ডিজাইনে গাছপালার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের আকার, জানালা দিয়ে আলো আসার পরিমাণ এবং গাছের পরিচর্যার সুবিধা বুঝে বেছে নিতে পারেন পছন্দের গাছ। বসার ঘরের খালি কোণে বড় পাতার মনস্টেরা বা স্নেক প্ল্যান্ট রাখুন। ছোট জায়গার জন্য মানিপ্ল্যান্ট, জিজি প্ল্যান্ট কিংবা পিস লিলি ভালো। তবে গাছ কেনার আগে ঘরে কতটা আলো আসে, তা বিবেচনা করা জরুরি।

শোওয়ার ঘরের এক পাশে রাখা যেতে পারে ছোট টবের গাছ। বারান্দায় সাজিয়ে রাখতে পারেন ফুলের গাছ, ক্যাকটাস কিংবা অর্কিড। জায়গা কম থাকলে দেওয়ালে লাগানো প্ল্যান্টার বা ঝুলন্ত টব ব্যবহার করতে পারেন। তবে ঘরের ভেতরে গাছ রাখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পানি নিষ্কাশন এবং নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

কাঠ, বেত আর মাটির উপকরণে সাজুক অন্দরমহল (ছবি: সংগৃহীত)

কাঠ, বেত আর মাটির উপকরণে সাজুক অন্দরমহল

প্রকৃতির ছোঁয়া আনতে শুধু গাছ রাখলেই হবে না, আসবাব ও সাজসজ্জার উপকরণেও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যায়। কাঠের ছোট টেবিল, বেতের চেয়ার, বাঁশের ঝুড়ি কিংবা পাটের তৈরি ওয়াল হ্যাঙ্গিং ঘরের সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। মাটির ফুলদানি, টেরাকোটার শোপিস ও পাথরের তৈরি সাজসজ্জার সামগ্রীও এই ধরনের অন্দরের সঙ্গে মানিয়ে যায়।

পুরনো আসবাব বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং কাঠের আসবাবের সঙ্গে কয়েকটি বেতের সামগ্রী বা মাটির পাত্র যোগ করলেই ঘরের চেহারায় পরিবর্তন আনা সম্ভব। রং বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবুজ, মাটির রং, বেইজ, বাদামি ও অফ-হোয়াইটের মতো প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরে প্রচুর আলো আসতে দিন (ছবি: সংগৃহীত)

জানালা দিয়ে আলো-বাতাস ঢুকতে দিন

বায়োফিলিক অন্দরসজ্জার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের যথাযথ ব্যবহার। তাই জানালার সামনে অপ্রয়োজনীয় আসবাব না রাখাই ভালো। ভারী পর্দার পরিবর্তে হালকা সুতির বা লিনেনের পর্দা ব্যবহার করলে ঘরে দিনের আলো সহজে প্রবেশ করতে পারে। এতে ঘরও তুলনামূলক উজ্জ্বল ও খোলামেলা দেখাবে।

যে ঘরে সরাসরি সূর্যের আলো কম আসে, সেখানে আলো-সহনশীল গাছ বেছে নিন। তবে প্রাকৃতিক আলোর বিকল্প হিসাবে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করলেও গাছের প্রয়োজনীয় আলো নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে জায়গা খোলামেলা রাখুন।

আলোর ব্যবহারে তৈরি হোক স্নিগ্ধ পরিবেশ

ঘরের সাজে আলোর প্রভাব অনেকখানি। বায়োফিলিক ডিজাইনে খুব উজ্জ্বল আলোর বদলে উষ্ণ ও কোমল আলো ব্যবহার করুন। বসার ঘরে ফ্লোর ল্যাম্প, টেবিল ল্যাম্প কিংবা বাঁশ ও বেতের তৈরি ল্যাম্পশেড রাখলে অন্দরসজ্জায় যোগ হবে নান্দনিকতা।

ঘরের কোণে রাখা গাছের পাশে উষ্ণ আলোর ব্যবস্থা করলে সন্ধ্যার পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে আলো এমনভাবে বসাতে হবে, যাতে চোখে সরাসরি না লাগে এবং গাছের পাতারও ক্ষতি না হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করুন।

বারান্দাকে করে তুলুন ছোট্ট সবুজের ঠিকানা (ছবি: সংগৃহীত)

বারান্দাকে করে তুলুন ছোট্ট সবুজের ঠিকানা

বাড়িতে বারান্দা থাকলে সেটিকে ছোট্ট সবুজ কোণে পরিণত করা যায়। বিভিন্ন মাপের টবে গাছ সাজিয়ে রাখুন। জায়গা থাকলে বেতের একটি চেয়ার ও ছোট টেবিল রাখতে পারেন। এতে অবসর সময়ে বসার জন্য তৈরি হবে আরামদায়ক একটি জায়গা। বারান্দায় কৃত্রিম ঘাস ব্যবহার করতে চাইলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও পরিষ্কার রাখার বিষয়টি মাথায় রাখুন।

ছোট বারান্দার ক্ষেত্রে উল্লম্বভাবে গাছ সাজানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। রেলিংয়ে ঝোলানো টব কিংবা দেওয়ালে লাগানো প্ল্যান্টার জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। তবে টব এমনভাবে বসাতে হবে, যাতে সেগুলি পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।

কম খরচেই আনুন প্রকৃতির ছোঁয়া

বায়োফিলিক অন্দরসজ্জার জন্য একসঙ্গে অনেক কিছু কেনার প্রয়োজন নেই। প্রথমে ঘরের একটি কোণ বেছে নিয়ে সেখানে কয়েকটি গাছ রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে কাঠ, বেত বা মাটির তৈরি উপকরণ যোগ করুন। পুরনো কাচের বোতলকে ফুলদানি হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা অব্যবহৃত কাঠের তাককে গাছ রাখার জায়গা হিসেবেও কাজে লাগানো যায়।

ঘরের সাজে প্রকৃতির ছোঁয়া আনতে সবচেয়ে জরুরি হলো আলো, সবুজ, প্রাকৃতিক উপকরণ ও খোলামেলা পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। অল্প কিছু পরিবর্তনেই বাড়ির পরিচিত অন্দরসজ্জা পেতে পারে নতুন রূপ।